রুমার বাজারসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন

বান্দরবানে রুমা বাজারসহ বিভিন্ন পয়েন্টে টোল-ট্যাক্স (হাসিল) আদায়ে অনিয়ম ও হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর ) সকাল ১০টায় রুমা বাজারে এই মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেছেন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের বাজারফান্ড কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ইজারাদার মোহাম্মদ খালেদ বিন। তিনি রুমা বাজার ও বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে সম্প্রতি অধিকাংশ স্থানে বেআইনিভাবে টোল-ট্যাক্স আদায় করছেন। ফলে ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অভিযুক্ত ইজারাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হলেও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ বা বাজার ফান্ড কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা।
ভুক্তভোগী ও খক্ষ্যংঝিরি বাজারে ব্যবসায়ী মো. খালেক মেম্বার অভিযোগ করে বলেন, খক্ষ্যংঝিরি বাজার জেলা পরিষদের বাজার ফান্ডের অধিনে নেই। কিন্তু বটতলী, আমতলী ও বাগান পাড়াসহ বিভিন্ন পয়েন্টে গাড়ি থামিয়ে জোরপূর্বক টোল ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর রুমা উপজেলার সীমানার বাইরে রোয়াংছড়ি উপজেলায় তারাছা ইউনিয়নের ম্রোংগো বাজারে গিয়ে তাদের ট্রাক থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। প্রমাণস্বরূপ দুটি রশিদ ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রদর্শন করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রুমা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিছ মিয়া, মোহাম্মদ বাবুল এবং খক্ষ্যংঝিরি বাজারের ব্যবসায়ী নেতা মোহাম্মদ খালেদসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
বক্তারা বলেন, কর্তৃপক্ষের ধার্যকৃত অনুমোদিত পরিমাণের বাইরে ইজারাদার নিজের ইচ্ছেমতো টোল ট্যাক্স আদায় করছেন। যার কোনো অধিকার তাদের নেই।
অবিলম্বে এই অনিয়ম বন্ধ না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কাছে দাবি করে বক্তারা বলেছেন, অবৈধ টোল আদায়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এবং ব্যবসায়ীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
ইদ্রিস মিয়া আরো বলেন, রুমা বাজার শেডের একটি কুচক্র ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমল থেকে নিজের সম্পদ হিসেবে দখল করে রেখেছেন। এর ফলে হাট বারে এই বাজারে দূর-দূরান্ত থেকে শাকসবজিও ফলমূল পিঠে বহন করে নিয়ে আসা চাষীরা শেডে স্থান পাচ্ছেন না। তারা বাধ্য হয়ে রাস্তার ধারে তাদের কষ্টার্জিত শাকসবজিগুলো রেখে তুলনামূলক কমদামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে দু’তিনটা পাহাড় ডিঙিয়ে নারীদের বাজারে এসে শেডের নিচে স্থান না পাওয়ায় বৃষ্টির দিনে ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজতে হয় এবং গরমের দিনে প্রখর রোদে উৎপাদিত শাক-সবজি ও ফলমূল বিক্রি করতে হয়।
এসব ভোগান্তি দূরীকরণে রুমা বাজার শেড দখলকারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দাবি জানান বক্তারা। বাজারে সবার অধিকার যাতে সুরক্ষিত হয় এবং কেউ যেন কারো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চান ব্যবসায়ী ও দূর-দূরান্ত থেকে আগত জুম চাষীরা।

















