জামায়াত নীতিনির্ধারকদের প্রজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন শিবির প্যানেলের ডাকসু সদস্য সর্ব মিত্র

fec-image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলে আজান দেওয়া নিয়ে মুফতি আমীর হামজার বিতর্তিক বক্তব্য ইস্যুতে এবার জামায়াতে ইসলামীর নীতিনির্ধারকদের প্রজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ডাকসু সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া ৩ আসনের মনোয়নপ্রাপ্ত আমির হামজার বক্তব্যের সমালোচনা করতে গিয়ে সর্ব মিত্র চাকমা বলেছেন, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্য মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তি যখন এরকম বক্তব্য প্রদান করেন, তখন সেই দলের নীতিনির্ধারক যারা তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তাদের প্রজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।’ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ফেইসবুক স্ট্যাটাসে সর্ব মিত্র চাকমা এই মন্তব্য করেন।

সর্ব মিত্র চাকমার ফেইসবুক স্ট্যাটাস- ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আজান বন্ধ ছিল এরকম বক্তব্য প্রদান করেছেন জামায়াতে ইসলামী থেকে সংসদ সদস্য নোমিনেশনপ্রাপ্ত ওয়াজকারী আমির হামজা। তিনি আরও বলেছেন যে শিবির ডাকসুতে জয়লাভ করার পর সেসব হলে আজান শুরু হয়। হাসিনার দুঃশাসনের আমলে জসিমউদ্দিন হল, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে মাইকে আজান দিতে ছাত্রলীগ বাঁধা দিলেও জুলাই বিপ্লবের পরপরই এই বাঁধা দূরীভূত হয়। মহসিন হলে এরকম কোন বাঁধার কথা জানা যায় না এবং সাম্প্রতিক ডাকসু নির্বাচনের সাথে আজান চালু হওয়ার কোনো সম্পর্কই নাই। এ ধরণের মিথ্যাচার হাসিনা আমলের কাঠামোগত ইসলাম বিদ্বেষের ভয়াবহতাকে লঘু করে ও হাসির পাত্রে পরিণত করে। একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্য মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তি যখন এরকম বক্তব্য প্রদান করেন, তখন সেই দলের নীতিনির্ধারক যারা তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তাদের প্রজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।’

সর্ব মিত্র চাকমা ওই স্ট্যাটাসে বিএনপি থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত এক নেতা সম্পর্কে বলেন, বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের নেতিবাচক অর্থে “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাদ্রাসায় পরিণত হয়েছে” এই কথা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি অপমান না, এটা আলিয়া ও কওমী মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত ও গ্রাজুয়েট কোটি কোটি বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীকেও অপমান করা। যারা মনে করেন, মাদ্রাসা ট্যাগ দিয়ে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অপমান করা যায়, তারা মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সাথে কি ধরণের বৈষম্য করেন তা সহজেই অনুমেয় এবং দেশের মূলধারার রাজনীতিবিদরা যখন এধরণের ঘৃণা, বিদ্বেষ ও বৈষম্যের রাজনীতি করেন, এটা নিয়ে নিন্দার ঝড় ওঠে না, তখন বাংলাদেশের ভবিষ্যত নিয়ে আমাদের শংকিত হতে হয়। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মত বাংলাদেশের প্রান্তিক অঞ্চলের জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন সদস্য হিসেবে আমি মার্জিনালাইজেশনের বেদনা খুব স্পষ্টভাবেই বুঝতে পারি। যারা মাদ্রাসা নিয়ে ঘৃণা ছড়ায় তারাই আমাদের স্বকীয়তা-সংস্কৃতি মুছে ফেলে বাঙালি হয়ে যেতে বলে।’

উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা মুফতি আমীর হামজা। ২৫ মে ২০২৫ কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সমাবেশে তার নাম ঘোষণা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসিন হলে আজান দেওয়াসহ আরো বেশ কিছু বিতর্কিত বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন জামায়াতের এই এমপি প্রার্থী।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হল নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর আলোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজাকে সতর্ক করে দিয়েছে তার দল জামায়াতে ইসলামী। তাকে রাজনৈতিক বিতর্কিত বিষয়ে বক্তব্য না দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে আমির হামজা এ তথ্য জানিয়েছেন।

আমির হামজা এ বিষয়ে বলেছেন, ‘সংগঠন থেকে বিতর্কিত রাজনৈতিক বক্তব্য না দেওয়ার জন্য দায়িত্বশীলরা সতর্ক করেছেন। দুজন কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল জানিয়েছেন- মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় যেন সতর্ক থাকি। কোরআনের তাফসিরের বাইরে আর কিছু বলব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ’

কোনো বিষয়ে তুলনা করে কথা বললেই প্যাঁচ লেগে যায় উল্লেখ করে মুফতি আমির হামজা বলেন, ‘আমি আর এসবের মধ্যে নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসিন হলে আজান দেওয়া নিয়ে বক্তব্যের সমালোচনা হচ্ছে। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের নাম বলতে গিয়ে মুহসিন হলের নাম বলেছি। এটা মুখ ফসকে হয়েছে। এ জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। মুহসিন হলে ছাত্রলীগের জমানায় জুলুম-অত্যাচার হয়েছে। বাথরুমে নামাজ আদায় করার কথা শুনেছি। কিন্তু আমার এভাবে বলা উচিত হয়নি। আগামীতে সতর্ক থাকব।’

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন