বাংলাদেশ সফর নিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের পোস্ট


তুরস্ক ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক্স-এ পোস্ট দিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। পোস্টে তিনি বলেছেন, তুরস্ক ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব হলো এমন দুটি দেশের বন্ধুত্ব, যারা সাধারণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কঠিন সময়ে সংহতি প্রদর্শন করেছে। আমরা এই বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করতে থাকব।’
একাধিক দেশ সফরের অংশ হিসেবে ৪ জুন থেকে ৬ জুন বাংলাদেশে আসেন তিনি। সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা ও অর্জন এই পোস্টের মাধ্যমে তুলে ধরেন হাকান ফিদান।
জুন ৬ বিকেলে দেওয়া এক্স পোস্টে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদেন আরো উল্লেখ করেন-
‘আমাদের এশিয়া-প্যাসিফিক সফরের চতুর্থ ও শেষ গন্তব্য বাংলাদেশে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের অভ্যর্থনা জানান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করি।
আমাদের পুরো সফর জুড়ে আমরা বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা প্রত্যক্ষ করেছি, যা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। এছাড়া আমাদের বাংলাদেশী ভাই-বোনেরা যাতে শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতায় বসবাস করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে গৃহীত ব্যাপক প্রচেষ্টাও আমরা দেখেছি।
আমরা লক্ষ্য করেছি যে, আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা আমাদের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে মানানসই। আমরা আগামী সময়ে সকল ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা আরও বাড়াতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং একই দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আমাদের বাংলাদেশী ভাই-বোনেদের সমর্থন অব্যাহত রাখব।
আমি বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ ও জনগণকে, বিশেষ করে আমার শ্রদ্ধেয় ভাই ড. খলিলুর রহমানকে, তাদের উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এই উপলক্ষে আমি আমার শ্রদ্ধেয় প্রতিপক্ষকে ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তাঁর সাম্প্রতিক নির্বাচনে আবারও অভিনন্দন জানাই। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে পালন করবেন।
আমাদের সফরকালে আমরা কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শন করার সুযোগও পেয়েছিলাম। দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ এক বিরাট দায়িত্ব পালন করছে। রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান খুঁজে বের করাই আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য।
কক্সবাজারে আমরা আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, টিকা (TIKA), তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট, তুর্কি ধর্মীয় বিষয়ক ফাউন্ডেশন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও খতিয়ে দেখেছি। আমরা তুরস্ক-বাংলাদেশ মানবিক সহায়তা হাসপাতালে কর্মরত আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি। মানবতার সেবায় কঠিন পরিস্থিতিতে কর্মরত আমাদের সকল কর্মীর নিষ্ঠা, ত্যাগ এবং অনুকরণীয় প্রচেষ্টার জন্য আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
তুরস্ক ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব হলো এমন দুটি দেশের বন্ধুত্ব, যারা সাধারণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কঠিন সময়ে সংহতি প্রদর্শন করেছে। আমরা এই বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করতে থাকব।’
বাংলায় অনূদিত
















