আগামী বছরের মধ্যে রাখাইন রাজ্য দখলের ঘোষণা মিয়ানমারের আরাকান আর্মির

fec-image

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য সামনে রেখে সময়সীমা ঘোষণা করেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। সংগঠনটির প্রধান কমান্ডার তোয়ান ম্রাত নাইং জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের মধ্যেই রাখাইনে ‘চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জনের আশা করছেন তারা।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) দেশটির সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার নাউ’ এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। আরাকান আর্মির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তোয়ান ম্রাত নাইং বলেন, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সব ধরনের সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান জোরদার করে আরাকান আর্মি। এর আগে উত্তর শান রাজ্যে ‘অপারেশন ১০২৭’ নামে যৌথ অভিযান শুরু করে বিদ্রোহী জোট, যার অংশ হিসেবেই অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় করে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি।

২০২৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত রাখাইনের ১৪টি টাউনশিপ এবং চিন রাজ্যের প্যালেতওয়া এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে আরাকান আর্মি। তবে রাখাইনের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি এলাকা সিত্তুয়ে, কিয়াকফিউ ও মানাউং এখনও জান্তা সরকারের দখলে রয়েছে।

সামরিক অগ্রগতির পাশাপাশি নিজেদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে প্রশাসনিক কাঠামোও গড়ে তুলছে সংগঠনটি। এসব এলাকায় আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তবে জান্তা বাহিনীর বিমান ও নৌ হামলার কারণে অনেক মানুষ এখনও বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।

আরাকান আর্মির ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের অন্য সদস্য মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি ও তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মিসহ বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী শুভেচ্ছা জানিয়েছে। পাশাপাশি সিআরপিএইচ, চিন ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স, বামার পিপলস লিবারেশন আর্মি এবং স্টুডেন্ট আর্মড ফোর্সসহ ৪০টির বেশি সংগঠনও শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছে।

২০০৯ সালের ১০ এপ্রিল মিয়ানমার-চীন সীমান্তবর্তী লাইজা শহরে মাত্র ২৬ জন সদস্য ও একটি অস্ত্র নিয়ে যাত্রা শুরু করে আরাকান আর্মি। বর্তমানে এটি দেশটির অন্যতম শক্তিশালী বিদ্রোহী সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: আরাকান আর্মি, মিয়ানমার, রাখাইন অঞ্চল
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন