পাকিস্তানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ট্রাম্প

fec-image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারো পাকিস্তানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। আর এর নেপথ্যে রয়েছে ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের এক জটিল সমীকরণ।

সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, পাকিস্তানের প্রতি তার অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। তার মতে, ইসলামাবাদ শান্তি প্রক্রিয়ায় ‘টেরিফিক’ বা অসাধারণ ভূমিকা পালন করছে।

ট্রাম্পের এই বারংবার প্রশংসা আসলে ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখা এবং একইসাথে তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনার একটি কৌশলী বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্প সরাসরি বলেছেন, ইরান যদি যুদ্ধ থামাতে চায় এবং আলোচনা করতে আগ্রহী হয়, তবে তাদেরই উদ্যোগ নিতে হবে।

তার ভাষায়, আলোচনার জন্য নিরাপদ টেলিফোন লাইন খোলা আছে, কিন্তু কাউকে ১৮ ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে আলোচনায় যেতে হবে না।

তবে এই আলোচনার মূল চাবিকাঠি হিসেবে তিনি পরমাণু অস্ত্র না রাখার শর্তটি আবারো কঠিনভাবে সামনে নিয়ে এসেছেন।

ট্রাম্পের বক্তব্যে একদিকে যেমন পাকিস্তানের প্রতি নমনীয়তা দেখা গেছে, অন্যদিকে ইরানের প্রতি তার অবস্থান ছিল বেশ কঠোর। তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটে, তবে আলোচনার কোনো মানেই হয় না। অর্থাৎ আলোচনা হতে হলে ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে আসতে হবে।

তেহরানের পক্ষ থেকে বারবার সার্বভৌমত্বের কথা বলা হলেও ট্রাম্প নিজের শর্তে অটল। তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইরানকে একরকম কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ওপর আস্থা প্রকাশ করে ট্রাম্প বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তিনি ইসলামাবাদকেই বেছে নিয়েছেন। যদিও সম্প্রতি তার বিশেষ দূতদের পাকিস্তান সফর বাতিল হয়েছে, তবুও ট্রাম্পের কণ্ঠে পাকিস্তানের বন্দনা থামেনি।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ট্রাম্প
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন