সন্তু লারমার ভারত সফর নিয়ে পাহাড়ে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জন


পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা আবারও ভারতে গেছেন। প্রকাশিত সংবাদ, স্থানীয় সূত্র ও পিসিজেএসএস-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ইনসাইড স্টোরি’র ফেইসবুক পোস্টে গতকাল রাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। পোস্টে সন্তু লারমার ফ্লাইটের বিবরণ তুলে ধরে ঘন ঘন ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ‘৩ মে ২০২৬ তার ফ্লাইট শিডিউল অনুসারে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা হয়ে কোলকাতায় (নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) যাওয়ার কথা। পোস্টে উল্লিখিত ফ্লাইট বিবরণে বলা হয়, সিজিপি-ডিএসি: নভোএয়ার ভিকিউ-৯১০ (০৩:১১৫৫-০৩:১২৫৫), ডিএসি-কলকাতা: ইন্ডিগো ৬ই১১০৬ (০৩:১৭৩৫-০৩:১৮১০)।’
এই সফর নিয়ে পার্বত্য অঞ্চলে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়। বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে পোস্টে জানানো হয়, ‘সন্তু লারমা প্রায়ই ভারতে যান। আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসা, পিতৃতর্পণ ও পারিবারিক অনুষ্ঠানের কথা বলা হলেও তার পরিবারের সদস্যদের ভারতে বসবাস এবং সম্ভাব্য সম্পত্তির বিষয়টি অনেকের মনে প্রশ্ন তুলেছে।’
কোলকাতায় তার পরিবার বসবাস করছে দাবি করে পোস্টে বলা হয়, ‘সন্তু লারমার মেয়ে জুলিয়ানা লারমা ও তার স্বামী (সাবেক শান্তিবাহিনী সদস্য প্রধীর তালুকদার) কোলকাতায় বসবাস করেন। এ কারণে তিনি নিয়মিত সেখানে যান। এর আগেও তিনি একাধিকবার কোলকাতা ও দিল্লি সফর করেছেন।’
২০২৩ ও ২০২৫ সালে কোলকাতা সফরের তথ্য তুলে ধরে পোস্টে বলা হয়, ‘২০২৩ সালে তিনি ব্যক্তিগত সফরে কোলকাতা হয়ে দিল্লি যান এবং সেখানে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসা করান। ২০২৫ সালের মে মাসে ২৯ দিনের ছুটিতে আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান চিকিৎসা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য। সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন—বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে থেকে পরিবারের সদস্যদের ভারতে স্থায়ী বসবাস কতটা যৌক্তিক?’
সন্তু লারমার ভারতীয় সংযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলা হয়, ‘১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তিচুক্তির স্বাক্ষরকারী সন্তু লারমা আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে আস্থা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু বিরোধীরা অভিযোগ করেন, তার ঘন ঘন ভারত সফর, পরিবারের সেখানে বসবাস এবং অতীতে শান্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় সংযোগের কারণে আনুগত্য নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলেন, পার্বত্য স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সক্রিয় থাকলেও তার ব্যক্তিগত স্বার্থ বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ। অন্যদিকে সমর্থকরা বলেন, তিনি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন।’
তাছাড়া পোস্টে সম্পত্তি ও জবাবদিহিতার দাবি তুলে বলা হয়, ‘সন্তু লারমার নিজের নামে ভারতে সম্পত্তির সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে না এলেও, পরিবারের কোলকাতায় বসবাসের কারণে সম্পত্তি-সংক্রান্ত প্রশ্ন উঠেছে। পার্বত্য অঞ্চলে জমি-সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় তার ভূমিকা থাকায় স্বচ্ছতা দাবি করেন অনেকে। জনমনে উঠছে প্রশ্ন- বাংলাদেশের পদে থেকে পরিবার কেনো ভারতে?, চিকিৎসার নামে ঘন ঘন সফরের আসল উদ্দেশ্য কী? পার্বত্য জনগণের প্রতি আনুগত্য বাংলাদেশ না ভারত? জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিদেশে সম্পত্তি ও পরিবারের বিষয়ে জবাবদিহিতা কোথায়?’















