ভারতের কেরালায় বিধানসভা নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন মুসলিম তরুণী


ভারতের কেরালায় রাজ্যে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছেন ৩৪ বছর বয়সী তরুণ আইনজীবী ফাতিমা তাহিলিয়া। বামপন্থীদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি পেরাম্ব্রা আসনে জয়লাভ করে তিনি ভারতীয় ইউনিয়ন মুসলিম লীগের (আইইউএমএল) প্রথম নারী সদস্য হিসেবে রাজ্য আইনসভায় প্রবেশ করে নতুন ইতিহাস গড়েছেন।
তিনি সিপিআই(এম)-এর জ্যেষ্ঠ নেতা ও এলডিএফ কনভেনর টি.পি. রামকৃষ্ণনকে পরাজিত করেন। মোট ৮১,৪২৯ ভোট পেয়ে তিনি ৫,০৮৭ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।
মঙ্গলবার (০৫ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় ‘দ্য উইক’।
এই ফলাফল এলডিএফের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে একই আসনে রামকৃষ্ণন ২২ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। ফলে তাহিলিয়ার এই বিজয় মালাবার অঞ্চলে ভোটারদের মনোভাবের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
তাহিলিয়ার এই অর্জন মুসলিম তরুণীদের জন্য নতুন আশার দিগন্ত উন্মোচন করেছে। একই সঙ্গে আইইউএমএলের নারী প্রার্থীদের জন্য ভবিষ্যতে এটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অতীতে দলটি খুব কম নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে এবং তেমন সাফল্যও পায়নি। ২০২৬ সালের আগে মাত্র দুইবার—১৯৯৬ ও ২০২১ সালে—নারী প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল, তবে দুজনই পরাজিত হন।
ছাত্ররাজনীতি থেকেই ফাতিমা তাহিলিয়ার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। তিনি মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশন (এমএসএফ)-এর রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং এর নারী শাখা ‘হারিতা’র প্রতিষ্ঠাতা রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১২ সাল থেকে তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করেন, বিশেষ করে প্রবীণ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে। তাদের কল্যাণ ও জীবিকার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। গত ৩১ মার্চ পেরাম্ব্রায় তার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন রাহুল গান্ধী।
শিক্ষাজীবনে তিনি ত্রিশূরের সরকারি আইন কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন এবং বর্তমানে কোঝিকোড জেলা আদালতে আইন পেশায় নিয়োজিত। ২০২০ সালে তিনি কোঝিকোড সিটি করপোরেশনের কুট্টিচিরা ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
সামাজিক সচেতনতা ও সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয়। বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রচারণা, নারীর অধিকার রক্ষা এবং মুসলিম নারীদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে তিনি সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন। হিজাবকে ব্যক্তিগত পরিচয়ের অংশ হিসেবে সংরক্ষণের পক্ষেও তিনি অবস্থান নিয়েছেন।
অভিজ্ঞতার অভাব নিয়ে দলের ভেতরে প্রশ্ন উঠলেও তিনি নিজের অবস্থানে দৃঢ় ছিলেন। এর আগে এমএসএফের জাতীয় সহ-সভাপতির পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, সংগঠনের কিছু জ্যেষ্ঠ নেতা নারীদের প্রতি অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছেন এবং তাদের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা করেছেন। ২০২১ সালের আগস্টে তার নেতৃত্বে একদল নারী এ বিষয়ে রাজ্য মহিলা কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেন।
সব মিলিয়ে, ফাতিমা তাহিলিয়ার এই বিজয় কেবল একটি নির্বাচনী সাফল্য নয়; এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনেরও এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

















