গরু জবাই ঈদ বা ইসলামের অংশ নয় : কলকাতা হাইকোর্ট

fec-image

কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছে, গরু জবাই ঈদুল আজহার অংশ নয় এবং ইসলাম ধর্মেও এটি বাধ্যতামূলক কোনো ধর্মীয় বিধান হিসেবে বিবেচিত হয় না।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) কলকাতার আদালত এই মন্তব্য করেন।

ঈদুল আজহার আগে গবাদিপশু জবাই নিয়ন্ত্রণে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা নির্দেশনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে আদালত এই পর্যবেক্ষণ দেয়। একই সঙ্গে আদালত সরকারের ওই নির্দেশনা বাতিল করা বা অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিতেও অস্বীকৃতি জানায়।

প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত জানতে চেয়েছে, ১৯৫০ সালের সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া সম্ভব কি না। আদালত আরও উল্লেখ করে, চলতি বছর ঈদুল আজহা ২৭ ও ২৮ মে পালিত হওয়ার কথা রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ১৩ মে জারি করা নির্দেশনায় পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ এবং ২০১৮ সালের হাইকোর্টের এক আদেশের উল্লেখ করা হয়। এসব বিধানে বলা হয়েছে, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সনদ ছাড়া গরু ও মহিষ জবাই করা যাবে না। সনদে উল্লেখ থাকতে হবে যে পশুটি জবাইয়ের উপযোগী।

আদালত রাজ্য সরকারকে আরও খতিয়ে দেখতে বলেছে, ১৯৫০ সালের আইনের ১২ নম্বর ধারা এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না। এই ধারায় ধর্মীয়, চিকিৎসা বা গবেষণার প্রয়োজনে বিশেষ অনুমতির মাধ্যমে নিষিদ্ধ পশু জবাইয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আদালত জনসমাগমস্থলে পশু জবাই নিষিদ্ধ করার শর্ত যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে বলেছে।

মামলার শুনানিতে কয়েকটি জনস্বার্থ মামলায় ১৯৫০ সালের আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য যুক্তি দেন, আইনটি পুরো পশ্চিমবঙ্গের জন্য নয়; বরং কেবল কলকাতা ও অন্যান্য পৌরসভা এলাকার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছিল। তবে আদালত এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি।

কলকাতা পৌর সংস্থার আইনজীবী নীলতপল চ্যাটার্জি আদালতে জানান, পশু জবাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোসমৃদ্ধ কসাইখানা রয়েছে এবং জবাই উপযোগিতার সনদ দেওয়ার জন্য নির্ধারিত কর্মকর্তারাও দায়িত্ব পালন করছেন।

এ প্রসঙ্গে হাইকোর্ট বলেছে, যথাযথভাবে সনদ প্রদান ও পুরো ব্যবস্থাপনা কার্যকর আছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাজ্যের। আদালত আশা প্রকাশ করে জানায়, কোনো ঘাটতি পাওয়া গেলে সরকার দ্রুত তা সংশোধনের উদ্যোগ নেবে।

সূত্র: দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া। 

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন