ট্রাম্পের চীন সফরকালে ছদ্মবেশী গোয়েন্দা মোতায়েন করেছিল বেইজিং !

fec-image

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চীন সফরকে ঘিরে নতুন করে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ উঠেছে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে। দাবি করা হচ্ছে, মার্কিন প্রতিনিধিদল ও শীর্ষ প্রযুক্তি খাতের নির্বাহীদের ওপর নজরদারি চালাতে রাষ্ট্রীয় আয়োজনের আড়ালে ছদ্মবেশী গোয়েন্দা মোতায়েন করেছিল চীন।

এই অভিযোগ তুলেছেন চীনা বংশোদ্ভূত স্বাধীন ব্লগার জেনিফার জেং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি দাবি করেন, বেইজিংয়ে আয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে ইলন মাস্কের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা নারী পরিবেশনকারী আসলে সাধারণ কোনো কর্মী নন; তিনি চীনের সামরিক বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ ও পদকপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

জেংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারীর নাম মেজর চেং চেং। তিনি চীনের একটি বিশেষ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার এবং সামরিক আনুষ্ঠানিকতা ও অপারেশন পরিচালনা–সংক্রান্ত নির্দেশিকা তৈরির সঙ্গে যুক্ত। জেং আরও দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে একই নারীকে সামরিক পোশাকেও দেখা গেছে। এমনকি লাল পোশাকের আড়ালে তার কাছে গোপন অস্ত্রও থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত চীন সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে জেনিফার জেংয়ের এমন অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৩ সালে কানাডায় খালিস্তানি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের পেছনেও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। তার দাবি ছিল, ভারতকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপে ফেলতেই ওই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগগুলো প্রমাণিত না হলেও এ ধরনের কৌশল চীনের অতীত গোয়েন্দা তৎপরতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতীতে ক্যালিফোর্নিয়ায় মার্কিন রাজনীতিকদের টার্গেট করে কথিত ‘ফ্যাং ফ্যাং’ গোয়েন্দা অভিযানের অভিযোগও উঠেছিল বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে।

পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছে যে, চীনের রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট গোয়েন্দারা বিভিন্ন সময় সাধারণ কর্মী বা সামাজিক পরিচয়ের আড়ালে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও কূটনৈতিক মহলে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। ফলে চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে পশ্চিমা বিশ্বে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: চীন, বেইজিং, যুক্তরাষ্ট্র
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন