বাংলাদেশের চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার খবরে দক্ষিণ এশিয়ায় মৃদু কম্পন

fec-image

বাংলাদেশের সামরিক শক্তি সমৃদ্ধ করতে চীনের কাছ থেকে জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার খবরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহ বিশেষ করে ভারতের সামরিক শক্তিতে মৃদু বা হালকা কম্পন শুরুর খবর জানাচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

যুদ্ধবিমান কেনার খবর ও বিশ্লেষণ বেশ গুরুত্বের সাথে তুলে ধরছে ভারত, পাকিস্তান ও চীনের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিকসমূহ। এসব সংবাদপত্রের খবরে বলা হচ্ছে যে, চীনের সাথে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের যে দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, সেটি আরো শক্তিশালী হতে যাচ্ছে জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের মাধ্যমে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ তাদের সামরিক শক্তি বাড়াতে চীনের সাথে এই চুক্তি করাতে চীনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং এর সামরিক শিল্পের গুণমান ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করছে।

দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া এবং ঢাকার ইংরেজি দৈনিক ওয়াদা জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা গভীর করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৪ থেকে ২৬ জুন চীন সফরকালে ২৪টি চীনা জে-১০সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

ডেইলি ওয়াদার বরাত দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “আমরা আশা করছি, চলতি বছরের আগস্টের মধ্যে যুদ্ধবিমান ক্রয় চুক্তিটি স্বাক্ষর করব।”

ডেইলি ওয়াদা-র তথ্যমতে, এই প্রতিরক্ষা আলোচনা একটি বৃহত্তর কর্মসূচির অংশ, যা বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের মতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করতে পারে।

মঙ্গলবার টাইমস অফ ইন্ডিয়া দাবি করেছে, চুক্তিটি সম্পন্ন হলে এটি হবে চীনের ফ্ল্যাগশিপ চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের জন্য দ্বিতীয় চুক্তি। পত্রিকাটি আরও জানায়, বর্তমানে চীনের বাইরে শুধু পাকিস্তান বিমান বাহিনীই এই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে। চীন এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

এই বিষয়ে বিদেশি গণমাধ্যমের আগ্রহ দেখানোর ঘটনা এটাই প্রথম নয়। গত অক্টোবরে পাকিস্তানি গণমাধ্যম দি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড তাদের পর্যালোচনা করা সরকারি নথির বরাত দিয়ে জানায়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও জাতীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০২৭ সালের মধ্যে আনুমানিক ২.২০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ২০টি চীনা জে-১০সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রস্তাবিত এই চুক্তিতে ক্রয়, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে সরাসরি ক্রয় অথবা সরকার-থেকে-সরকার চুক্তির মাধ্যমে কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, এই অর্থ পরিশোধ ২০৩৫-৩৬ অর্থবছর পর্যন্ত ১০টি অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে করা হবে।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরক্ষা সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে এবং দেশটি অতীতে জে-৭ যুদ্ধবিমান ও কিউ-৫ অ্যাটাকারের মতো চীনা যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করেছে। তবে, জেএফ-১৭ এবং জে-১০-এর মতো পরবর্তী মডেলগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে বুধবার গ্লোবাল টাইমসকে জানান বেইজিং-ভিত্তিক অ্যারোস্পেস নলেজ ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদক ওয়াং ইয়ানান।

ওয়াং বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সরঞ্জাম তুলনামূলকভাবে পুরোনো হওয়ায় এর প্রধান যুদ্ধবিমান বহরকে আধুনিকায়ন করার জরুরি প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে, চীনা সরঞ্জামের সঙ্গে ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার কারণে চীনা প্ল্যাটফর্মের ওপর বাংলাদেশের একটি নির্দিষ্ট মাত্রার আস্থা রয়েছে। তবে, শেষ পর্যন্ত ক্রয় চুক্তি হবে কিনা তা এখনও অনিশ্চিত।

একদিকে, প্রতিবেদনগুলোর উৎস এখনও একাধিক মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, ওয়াং মনে করেন যে ২৪টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাজেটের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ব্যয় হবে।

সব মিলিয়ে, ওয়াং বলেন যে এই বিষয়ে বিদেশি গণমাধ্যমের মনোযোগ এটাই প্রতিফলিত করে যে চীনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং এর সামরিক শিল্পের গুণমান ক্রমবর্ধমান স্বীকৃতি লাভ করছে।

উৎস : গ্লোবাল টাইমস অনলাইন

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: চীন, জে-১০সিই যুদ্ধবিমান, পাকিস্তান
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন