জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ, উদ্বেগের খবর ভারতীয় গণমাধ্যমে


বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে চীনের তৈরি অত্যন্ত শক্তিশালী জে-১০সিই মাল্টিরোল ফাইটার জেট সংগ্রহের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক জোট গঠন ও এই দেশগুলোর মধ্যে সামরিক সহযোগিতা যেভাবে সামনের দিকে এগুচ্ছে তাতে ভারতের অবশ্যই এসব বিষয়ের দিকে নজর রাখা উচিত বলে মনে করছেন ভারতীয় সামরিক বিশ্লেষকরা। পাকিস্তানের পর এবার চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান সংগ্রহের বিষয়টি ভারতের জন্য কতটা মাথা ব্যথার কারণ তা নিয়ে একটি তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী চীন থেকে ২৪টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করবে। এই বিমানটি সংগ্রহ করা হলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা উন্নত হবে। যুদ্ধবিমান সংগ্রহ সংক্রান্ত এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি সম্পন্ন হলে এটি শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, চীনের জন্যও একটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি হবে। কারণ বেইজিংয়ের ফ্ল্যাগশিপ চতুর্থ প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমানের জন্য এটি হবে দ্বিতীয় চুক্তি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার
খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বর্তমানে চীনের বাইরে শুধু পাকিস্তান বিমান বাহিনী এই যুদ্ধবিমানটি ব্যবহার করে। ভিগোরাস ড্রাগন নামেও পরিচিত এই যুদ্ধবিমানটি গত বছরের মে মাসে ৮৮-ঘণ্টার ‘অপারেশন সিন্ধুর’-এ পাকিস্তানিরা ব্যবহার করেছিল। এই সংঘর্ষ চলাকালে চীনা যুদ্ধবিমানটি ভারতীয় বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার মধ্যে অনেকগুলো পাঞ্জাবের মাঠ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঢাকা চলতি বছরের আগস্টে প্রতিটি বিমানের জন্য ৪০ মিলিয়ন ডলার মূল্যে যুদ্ধবিমানগুলোর চুক্তি স্বাক্ষর করার পরিকল্পনা করছে।
বাংলাদেশি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া আরো বলেছে যে, বাহিনীটি ২০১৭ সাল থেকে তাদের এফ-৭ (মিগ-২১ এর চীনা সংস্করণ) যুদ্ধবিমানের পরিবর্তে একটি আধুনিক যুদ্ধবিমান খুঁজছে। গত ডিসেম্বরে বিএএফ ইউরোফাইটার সংগ্রহের জন্য একটি ইতালীয় সংস্থার সাথে একটি লেটার অফ ইন্টেন্ট স্বাক্ষর করেছিল। বিএএফ চীন ও পাকিস্তানের জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানও বিবেচনা করেছে। যদি বাংলাদেশিরা চীনা যুদ্ধবিমানটি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা বেইজিংয়ের প্রতিরক্ষা রপ্তানির পরিমাণ কিছুটা বাড়াতে সাহায্য করবে, যা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনা বিমান বাহিনীর (পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্স – পিএলএএএফ) সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত যুদ্ধবিমান হলো জে-১০। এর পরেই রয়েছে জে-২০ এবং রাশিয়ান ফ্ল্যাঙ্কার সিরিজের দেশীয়ভাবে তৈরি বিভিন্ন সংস্করণ, যেমন জে-১১ ও জে-১৬। জে-১০-এ একটি উন্নত অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে (এইএসএ) রাডার এবং আকাশ থেকে আকাশে ও আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য প্রচুর আধুনিক অস্ত্র রয়েছে। এই যুদ্ধবিমানের সর্বোচ্চ গতি ম্যাক ১.৮ এবং এর যুদ্ধক্ষেত্র ব্যাসার্ধ ১,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি। পশ্চিমা সমকক্ষ বিমানগুলোর তুলনায় অনেক কম দামে এই বিমানটি আধুনিক সক্ষমতা প্রদান করে। এই সম্ভাব্য চুক্তির খবরটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন সিপ্রি (SIPRI) এবং সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী চীনের অস্ত্র বিক্রির অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। চীন থেকে রপ্তানি করা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ৮০ শতাংশেরও বেশি এশিয়ায়, ১৭ শতাংশ আফ্রিকায় এবং বাকিগুলো মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় বিক্রি হয়। বিক্রি হওয়া সমস্ত প্ল্যাটফর্মের ৬০ শতাংশেরও বেশি তিনটি দেশ সংগ্রহ করে থাকে, যথা—পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার।
ভারতের এক প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে একটি জোট গঠন করেছে। এই দেশগুলোর মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বাড়ছে, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্প্রতি একটি ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ভারতের অবশ্যই এই সম্পর্কের ওপর নজর রাখা উচিত।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে আরো বলা হয় যে, বাংলাদেশ তার প্রতিরক্ষা চাহিদার জন্য চীনের ওপর ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। দেশটির যুদ্ধবিমান বহরের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এবং সম্পূর্ণ ট্যাংক বাহিনীই ইতোমধ্যে চীনের তৈরি। বিমান প্রতিরক্ষা ও কামান উভয় বিভাগেই প্রচুর পরিমাণে চীনা সরঞ্জাম রয়েছে।
ইংরেজি থেকে বাংলায় অনূদিত।

















