সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের আলোচনার মধ্যেই আসিম মুনিরকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল মোসাদ

fec-image

ইরান এবং অ্যামেরিকার মাঝে দ্বিতীয় দফা আলোচনা শেষ হয়েছে। এই আলোচনার মাঝেই ব্রাজিলের জগত বিখ্যাত সাংবাদিক পেপে এস্কোবার বোমা বিস্ফোরণ করেছেন। তিনি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে বলেছেন, আলোচনা চলা অবস্থায় সুইজারল্যান্ডেই পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল ইজরাইল।

আপনাদের জানিয়ে রাখি, এস্কোবার অনেক আগে থেকেই বলে আসছেন- পাকিস্তানের আলোচক দলের সাথে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ আছে। তাছাড়া পাকিস্তান থেকেই বেশ কিছু বিশ্লেষক এখন এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে।

অর্থাৎ পাকিস্তান যে অ্যামেরিকা এবং ইরানের মাঝে আলোচনার মধ্যস্থতা করছে; এটি ইজরাইলের পছন্দ হচ্ছে না। ইরান যতবার এর আগে অ্যামেরিকার সাথে আলোচনা করার চেষ্টা করেছে। ইজরাইল, ইরানের আলোচকদের এভাবেই হ*ত্যা করেছে। যারাই অ্যামেরিকার সাথে আলোচনা করতে গিয়েছে, যেমন- ইসমাইল খাতিব, মোহাম্মদ কাজেমি কিংবা আলী লারিজানি। এদের সবাইকে ইজরাইল হ*ত্যা করেছে।

এখন এর সাথে যুক্ত হয়েছে পাকিস্তানের আসিম মুনিরের নাম। তবে পৃথিবীজুড়ে ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকরা এখন আলোচনা করছেন- ইরানের মত একটা রাষ্ট্র কী করে অ্যামেরিকার মত পরাশক্তিকে এই যুদ্ধে হারিয়ে দিল? অ্যামেরিকান সামরিক বিশ্লেষক কর্নেল ম্যাক গ্রেগর বলেছেন

– America’s military budget is 150 times larger than Iran’s ( অ্যামেরিকার সামরিক বাজেট ইরানের ১৫০ গুণ বেশি) ১৫০ গুণ! চিন্তা করে যায়। আর সৌদি আরবের মিলিটারি বাজেট ইরানের চাইতে ১০ গুণ বেশি। হ্যাঁ ১০ গুণ! সেই সৌদি আরব ইরানের হাত থেকে নিজেরা তো বাঁচতে পারেই নাই। অ্যামেরিকাও ওদের নিরাপত্তা দিতে পারে নাই। এখানেই লুকিয়ে আছে মূল বিষয়টা।

অ্যামেরিকান সামরিক বিশেষজ্ঞ কর্নেল ড্যানিয়েল ডেভিসের শোতে গিয়ে এমআইটি (জগত সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের) অধ্যাপক টেড পস্তল জানিয়েছেন

– The U.S. Patriot missile defense system is only about 5% effective ( আমেরিকার প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাত্র প্রায় ৫% কার্যকর।)

এমআইটির এই অধ্যাপক এই বিষয় নিয়েই গবেষণা করেছেন এবং তিনি একদম রিয়াল টাইম ডাটা দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন। আর অ্যামেরিকান সরকার কী বলে এসেছে এতদিন?

– প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৯০% কার্যকর!

তো, এই হচ্ছে অ্যামেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা! আর সৌদি আরব সহ অন্যান্য দেশগুলো যুগের পর যুগ অ্যামেরিকার কাছ থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার দিয়ে এইসব কিনছে। সামরিক বাজেট শুধু বেড়েছে। দিন শেষে এইসব কাজ করে নাই।

অন্য দিকে ইরান নিজেদের তৈরি মিসাইল এবং ড্রোন দিয়ে এই যুদ্ধে জিতে গেছে। ইরানের এই জিতে যাওয়া এবং অ্যামেরিকার সাথে আলোচনা ইজরাইল কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছে না। ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষক অ্যালেক্স ক্রেইনার জানিয়েছেন

– I*srael might carry out a false-flag operation similar to 9/11 in the United States. (ইসরায়েল হয়তো যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১-এর মতো একটি ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন চালাতে পারে।)

মানে এই রকম অপারেশন চালিয়ে ইরান কিংবা আরব দেশগুলোর নামে চালিয়ে দেবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে- পৃথিবী তো আর আগের মত নাই। ইসরাইলের লবিস্টদের টাকা খাওয়া অ্যামেরিকান মূল ধারার সংবাদ মাধ্যমগুলোকে খোদ অ্যামেরিকানরাই এখন বর্জন করছে। এদিকে ট্রাম্পের বন্ধু এবং ফক্স নিউজের অনেক দিনের সাংবাদিক টাকার কার্লসন বলেছেন

– আমি আর কোন দিন ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান পার্টিকে সাপোর্ট করবো না।

এটা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন- দলগুলো আসলে অ্যামেরিকা ফার্স্ট নয়, ইজরাইল ফার্স্ট নীতিতে কাজ করছে। সেটা ডেমোক্রেট হোক কিংবা রিপাবলিকান পার্টি। অথচ ইরান যুদ্ধের আগ পর্যন্তও কার্লসন ট্রাম্পের ভালো বন্ধু ছিল। আস্তে আস্তে অ্যামেরিকান জনগণও বিষয়টা বুঝতে পারছে। ইসরাইলকে এখন অ্যামেরিকার প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ আর সাপোর্ট করছে না।

৯/১১-এর মত কিছু ঘটিয়েও ওরা কিছু করতে পারবে বলে মনে হয় না। অল্টারনেটিভ মিডিয়া এখন মূল ধারার বিক্রি হয়ে যাওয়া মিডিয়ার চাইতে অনেক শক্তিশালী। ওরা সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত খবর বের করে ফেলবে।

তাহলে অ্যামেরিকার এলিট-বুর্জোয়া সরকার এবং ইজরাইল মিলে এখন কী করবে? আমার ধারণা অ্যামেরিকাকে ইরানের দেয়া সকল শর্ত মেনে নিতে হবে। আর ইজরাইলের সেটা সহ্য হবে না। এরপর ইজরাইল ওই এলাকার অন্য কোন দেশে আক্রমণ করবে। এর মাঝে অবশ্য ইজরাইলের অনেক নেতারা বলছে

– আমরা তুরস্কে হামলা করবো!

এদিকে ব্রাজিলের বিখ্যাত সাংবাদিক পেপে এস্কোবার বলেছেন

– পশ্চিম এশিয়ার দেশ ইরান, তুরস্ক, মিশর, সৌদি আরব, কাতার এবং পাকিস্তান মিলে ন্যাটোর মত একটা অ্যালায়েন্স করতে যাচ্ছে।

অর্থাৎ কোন একটা দেশ যদি আক্রমনের শিকার হয়। তাহলে অন্যরা সবাই মিলে ন্যাটোর মত এক হয়ে সেই দেশকে হামলা করবে। এই ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে নাকি সিরিয়াস আলোচনা চলছে।

এমন একটা জোটই এখন মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ। যেখানে অ্যামেরিকা থাকবে না। অর্থাৎ এত দিন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো; বিশেষ করে আরব দেশগুলোকে নিরাপত্তা দেয়ার কথা বলে অ্যামেরিকা এইসব দেশে ঘাঁটি করেছে। বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য করেছে সামরিক জিনিস বিক্রি করে।

কিন্তু এই যুদ্ধের সময় অ্যামেরিকা সৌদি আরব থেকে মিসাইল প্রতিরক্ষা সরিয়ে ইজরাইলে নিয়ে গিয়েছিল। আর এটা পুরো আরব বিশ্ব দেখেছে। তাই অ্যামেরিকাকে এখন আর কেউ বিশ্বাস করছে না। তাহলে সমীকরণটা কী দাঁড়ালো?

মধ্যপ্রাচ্য সাম্রাজ্যবাদী অ্যামেরিকার Hegemon (প্রভাব) আর থাকছে না। আর অ্যামেরিকার প্রভাব না থাকে মানে ইজরাইলের আর কিছুই করার নাই। ইজরাইলের আসলে নিজস্ব কোন শক্তি নাই। পুরোটাই ফেইক। ওদের যা শক্তি, সবই অ্যামেরিকার দেয়া।

ইরান একাই দুটো সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রকে হারিয়ে দিয়ে এখন পৃথিবী নামক এই গ্রহে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। গত পরশু আমি ক্যানাডার যে কনফারেন্সে গিয়েছিলাম। সেখানে আলোচনার মূল বিষয় ছিল

– How did Iran make it? ( ইরান কীভাবে এটা সম্ভব করলো?)

আমি সহ প্রায় সকল আলোচক একই রকম উত্তর দিয়েছে- ইরান কখনো ওদের শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে কম্প্রোমাইজ করে নাই। যেটা পশ্চিমা দেশে বসে অনেকে জানতে পারে নাই। ওদেরকে অনেক নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এরপরও ওরা জ্ঞান চর্চা থামায় নাই। আর এই জ্ঞান চর্চাই ওদেরকে এখন পৃথিবীর বিস্ময়ে পরিণত করেছে

লেখক : আমিনুল ইসলামের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন