ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত ১,৭০০ ছাড়াল


ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। এ পর্যন্ত দেশটিতে ৫০০টির বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
বিবিসি ও রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলের লা গুয়েরা প্রদেশে আঘাত হানে। এতে প্রায় ৮০০ ভবন ধসে পড়ে এবং ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বন্দরনগরী লা গুয়েরায় এখনও অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পৌঁছেনি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা লোহার রড, হাতুড়ি ও গাঁইতির মতো সাধারণ সরঞ্জাম দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজ স্বজন ও প্রতিবেশীদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার (২৯ জুন) ভোরে ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি আফটারশক নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করলেও এতে অতিরিক্ত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এ ঘটনাকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ২৫ হাজারের বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ ও সেনাসদস্য কাজ করছেন। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে একটি বিশেষ কমিশন গঠন এবং গৃহহীনদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়শিবির নির্মাণের কাজ চলছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছাতে শুরু করলেও সময়ের সঙ্গে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে আসছে। তবে সোমবার ভোরে ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকার পর ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া বিদ্যুৎকর্মী রুবেন রোহাস জানান, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ক্যারোলিন জেরপা বলেন, তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা বাবা ও ভাইকে খুঁজছেন। তার ভাষায়, “শুধু একটি গাঁইতি দিয়ে খুব বেশি কিছু করা যায় না। এখন আর জীবিত উদ্ধারের আশা নেই। অন্তত স্বজনদের মরদেহ উদ্ধার করে দাফন করতে চাই।”
লা গুয়েরার বাসিন্দা জুলি মারিনের অভিযোগ, সরকারি সহায়তা দ্রুত পৌঁছালে আরও অনেক মানুষের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হতো। ভূমিকম্পে তিনি তার ভাগনি ও ভগ্নিপতিকে হারিয়েছেন।
কারাকাসের পশ্চিমাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকা এল হুনকিতোতেও সরকারি উপস্থিতি সীমিত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সেখানে কৃষক ও বাসিন্দারাই দুর্গত মানুষের জন্য খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করছেন।
জাতিসংঘের আবাসিক মানবিক সমন্বয়ক জিয়ানলুকা রাম্পোলা দেল তিনদারো জানান, এ পর্যন্ত ৫০০টির বেশি আফটারশক হয়েছে। অন্তত ২ হাজার ৫০০ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার অধিকাংশই সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় জাতিসংঘ ১০ হাজার মরদেহ বহনের ব্যাগ সংগ্রহ করছে। তার মতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তাও জোরদার হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ৩০ কোটি ডলারের বেশি জরুরি সহায়তা ঘোষণা করেছে। এই অর্থ চিকিৎসা, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, আশ্রয় ও ত্রাণ পরিবহনে ব্যয় করা হবে। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ফোর্ট লডারডেল লা গুয়েরা উপকূলে অবস্থান করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করছে।
এ ছাড়া নেদারল্যান্ডস জরুরি ত্রাণসামগ্রীবাহী একটি জাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে চীন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

















