মহালছড়িতে দেয়াল ধসে গুরুতর আহত বৃদ্ধার জীবন বাচাঁলো সেনাবাহিনী

fec-image

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বিচ্ছিন্ন যোগাযোগের মধ্যে যখন গুরুতর আহত এক বৃদ্ধাকে হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল, তখন তার পাশে দাঁড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দুর্গম এলাকায় দ্রুত পৌঁছে আহত নারীকে উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি জোন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে মহালছড়ি উপজেলার ক্যয়াংঘাট ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৬৫ বছর বয়সী হালিমা বেগম নিজের কাঁচা ঘরে বৃষ্টির মধ্যেই রান্নার কাজ করছিলেন। হঠাৎ টানা বর্ষণে নরম হয়ে যাওয়া ঘরের একটি মাটির দেয়াল ধসে পড়ে। দেয়ালের সঙ্গে থাকা আসবাবপত্র ও ভাঙা কাঁচের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। দুর্ঘটনায় তার একটি পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, তার অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

এদিকে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে মহালছড়ির বিভিন্ন এলাকার সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আহত বৃদ্ধাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া স্থানীয়দের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে খবর পেয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মহালছড়ি জোনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।

সেনাসদস্যরা আহত হালিমা বেগমকে সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে দ্রুত তাকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। সেনাবাহিনীর এই সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলে আহত বৃদ্ধার দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা শুধু উদ্ধারেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং আহত নারীকে নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে মানবিক দায়িত্বেরও উজ্জ্বল নজির স্থাপন করেছেন। তারা বলেন, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সেনাবাহিনী বারবার সাধারণ মানুষের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠছে।

এদিকে টানা বর্ষণে মহালছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক গ্রামীণ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি জোরদার করেছে।

দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম স্থানীয় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আস্থার সঞ্চার করেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দুর্যোগকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: খাগড়াছড়ি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, মহালছড়ি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন