যে দিকেই যাচ্ছে; কোন কুল-কিনারা খুঁজে পাচ্ছে না ট্রাম্প

fec-image

আল জাজিরার এই মুহূর্তের লাইভ আপ-ডেট বলছে- ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণার পর প্রস্তুত অবস্থানে মার্কিন বাহিনী। আল-জাজিরা এই খবর ব্রেক করার পর ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম স্কাই নিউজের সামরিক বিশেষজ্ঞ শন বেল বলেছেন- যদি অ্যামেরিকার নিয়ন্ত্রণেই হরমুজ প্রণালী থাকে, তাহলে সেটি আবার খুলতে প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে কেন?

শন বেল কিছুক্ষণ আগে যখন এই কথা বলছিল। আমি লাইভে স্কাই নিউজ দেখছিলাম। তিনি হেসে হেসে এই কথা বলছিলেন। তাঁর কথা শুনে আমারও হাসি পাচ্ছিল এটা ভেবে যে, ট্রাম্প ইরানে এসে এমন ভাবে আটকা পড়েছে- এখন যে দিকেই যাচ্ছে; কোন কুল-কিনারা খুঁজে পাচ্ছে না।

এই যে ট্রাম্প গত তিন দিন ধরে ক্রমাগত বলেই যাচ্ছে – ইরানিরা আমাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন ট্রাম্প ইজরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কথা এভাবে বিশ্বাস করেছে? আপনাদের জানিয়ে রাখি- দিন কয়েক আগে ট্রাম্প যখন তুরস্কে এসেছিলো ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতে। ফিরে যাবার সময় ইজরাইল ট্রাম্পকে জানিয়েছে- ইরানিরা যে কোন মুহূর্তে ট্রাম্পকে হত্যা করতে পারে।

ট্রাম্প এরপর কাতারের দেয়া বিমানে করে ফিরে যায় নাই। অন্য বিমানে অ্যামেরিকা ফিরে গেছে। হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। অ্যামেরিকার দাস কাতারের দেয়া গিফট বিমান ছিল ওটা। যা হোক, এখন গতকাল থেকে দেখছি ট্রাম্প বলেই যাচ্ছে- হাজার হাজার মিসাইল প্রস্তুত আছে ইরানের দিকে তাক করে।

কেন বলেছে? অর্থাৎ সে বুঝাতে চেয়েছে- আমাকে হ*ত্যা করা হলে কী করতে হবে সব বলে দেয়া আছে এবং মজার ব্যাপার হচ্ছে এটা সে নিজেই বলে বেড়াচ্ছে!
বেলজিয়ান সাংবাদিক এবং ভূরাজনীতি বিশ্লেষক অ্যালাইজা ম্যগনেইর আজ প্রশ্ন করেছেন- ইরানের বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী সব না ধ্বংস করে দিয়েছে অ্যামেরিকা। তাহলে ট্রাম্প ইরানকে ভয় পাচ্ছে কেন?

ট্রাম্প যে দিন প্রথম এই কথা বলেছে- সে দিনই আমার মনে হয়েছে- ইরানকে না ওরা ধ্বংস করে দিয়েছে? প্রতিদিন টেলিভিশনের সামনে এসে ট্রাম্প বলেছে- ইরান আগামী ২০ বছরেও উঠে দাঁড়াতে পারবে না ইত্যাদি।

সেই ইরানকে কেন সে এখন ভয় পাচ্ছে? আর সেই ইরান কীভাবে এখন হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রাখার সামর্থ্য দেখাতে পারছে? ব্রিটিশ টেলিভিশন স্কাই নিউজের ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক মাইকেল ক্লার্ক বলেছেন-এটাই প্রমাণ করছে এই যুদ্ধে অ্যামেরিকা হেরে গেছে।

আমি অবশ্য অধ্যাপক মাইকেল ক্লার্কের মত এতটা বোল্ড স্টেটমেন্ট দিতে চাইছি না। গত প্রায় এক মাস ধরে মাইকেল এইসব বলছেন। আমি এখনও মনে করছি না- ইরান এই যুদ্ধে পুরোপুরি জিতে গেছে। কৌশলগতভাবে অবশ্যই ইরান জয়ী হয়েছে। কিন্তু সামরিক ভাবে এখনও ইরানকে এই যুদ্ধে টিকে থাকতে হবে আরও কিছু দিন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে – কেন ট্রাম্প এভাবে নিজের জীবন নিয়ে চিন্তিত?

আপনাদের জানিয়ে রাখি- দিন চারেক আগে অ্যামেরিকা ইরানের বেশ কিছু জায়গায় হামলা করেছিল। এর মাঝে একটা রেল-লাইনেও অ্যামেরিকা হামলা চালিয়েছে। খুব বড় কোন ক্ষতি করতে পারে নাই। ইরান সেটা মেরামত করে ফেলেছে। কিন্তু বিষয়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারন এই রেল লাইন দিয়ে ইরানের সাথে চীনের যোগাযোগ আছে। আর অ্যামেরিকা ইচ্ছে করেই সেখানে হামলা করেছে।

অর্থাৎ এই যুদ্ধে এক অর্থে অ্যামেরিকা প্রথম বারের মত সরাসরি চীনের ইন্টারেস্টে আঘাত করেছে। অ্যামেরিকান সামরিক বিশেষজ্ঞ স্কট রিটার বলেছেন- ট্রাম্প হয়ত এই কারনে আরও বেশি ভয় পেয়ে গেছে। হয়ত ইরানের সাথে চীনকেও সে এখন ভয় পেতে শুরু করেছে। যদি কোন ক্ষতি করে!

আমার কাছে সব চাইতে অবাক লাগছে- ইরানিরা কেউ বিষয়টা অস্বীকার করছে না। মানে কেউ বলেছে না- না, আমরা ট্রাম্পের কোন ক্ষতি করতে চাই না। কাউকে বলতে দেখলাম না। আজকে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মারান্ডিকে প্রশ্ন করা হয়েছে- এই বিষয়ে তোমার মন্তব্য কী?

তিনি উত্তরে বলেছেন- ইরানের একটা স্কুলে হামলা চালিয়ে শতাধিক বাচ্চাকে অ্যামেরিকানরা হ*ত্যা করেছে। কোন রকম উস্কানি ছাড়া ইরানে যুদ্ধ শুরু করেছে। খামেনির শেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ইরানের জনগণ জানিয়ে দিয়েছে- তাঁরা প্রতিশোধ নিতে চায়।

অধ্যাপক মারান্ডি সরাসরি কোন উত্তর দেন নাই। কিন্তু আমার কাছে কেন যেন মনে হলো- তিনি এর পক্ষেই মত দিয়েছেন!

যা হোক, যুদ্ধ যে এখন হরমুজে এসে ঠেকেছে। সেটা তো বুঝতেই পারছেন। এখন অ্যামেরিকা বলছে- হরমুজে প্রস্তুত আছে অ্যামেরিকান বাহিনী।

তাহলে কি আমরা একটা হরমুজের যুদ্ধ দেখতে যাচ্ছি খুব দ্রুতই? অ্যামেরিকা কি ইরানের কোন দ্বীপ দখলে নেবে? স্থল যুদ্ধ কি আদৌ হতে যাচ্ছে? এটা হয়ত কয়েক দিনের মাঝেই বুঝা যাবে। কিন্তু অ্যামেরিকা যদি ইরানে আবার অল-আউট যুদ্ধ শুরু করে। তাহলে অবস্থা কোন দিকে যাবে; সেটা তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মারান্ডি আজ আবার সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন- এই অঞ্চলের অল্প যে কয়টা অ্যামেরিকান ঘাঁটি অবশিষ্ট আছে। একটাও আর থাকবে না। আরব দেশগুলোর তেল-গ্যাস ক্ষেত্র ধ্বংস করে দেয়া হবে।
এই লেখা শেষ করছি অ্যামেরিকার জগত বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় এমআইটির অধ্যাপক এবং পেন্টাগনের সাবেক উপদেষ্টা টেড পস্তল আজও নরওয়েজিয়ান অধ্যাপক ও ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষক গ্লেন ডাইসেনের শোতে গিয়ে বলেছেন- প্যাট্রিয়ট PAC-3-এর ইন্টারসেপশন (প্রতিরোধ) হার ছিল শূন্য শতাংশ।)

তিনি গবেষণা করে, রিয়াল টাইম ডাটা দিয়ে দেখিয়েন- অ্যামেরিকার প্যাট্রিয়ট PAC-3 ইরানে কিংবা ইউরোপে কোথাও কোন মিসাইল প্রতিরোধ করতে পারছে না। অথচ সাম্রাজ্যবাদী অ্যামেরিকানরা এ নিয়ে গর্ব করে। আর অনেক দামে ওদের সাম্রাজ্যবাদের দাস আরবদের কাছে এইসব বিক্রি করছে বছরের পর বছর। যা হোক, এর মানে বুঝতে পারছেন তো?

ইরানের মিসাইল এবং ড্রোনগুলো ঠিক জায়গা মতই আঘাত করছে। আজকেও অনেকগুলো ইরানি মিসাইল সরাসরি আঘাত করেছে। আর ঠিক এই জন্যই ট্রাম্প এখন নিজের জীবন নিয়ে যেমন ভয় পাচ্ছে। ঠিক একই কারনে- হরমুজ এখন এবং ভবিষ্যতেও ইরানের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।

উৎস : লেখকের ফেইসবুক পোস্ট।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ট্রাম্প
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন