রামগড়ে ইউপি মেম্বারের লালসার শিকার সুফিয়া তার সন্তানের স্বীকৃতি চায়
রামগড় প্রতিনিধি, পার্বত্যনিউজ :
খাগড়াছড়ির রামগড়ে তিন সন্তানের জনক এক ইউপি মেম্বারের বিরুদ্ধে এক স্বামী পরিত্যাক্ত নারীকে ধর্ষনের মতো চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলাধীন ১নং রামগড় ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের থানাচন্দ্র পাড়া এলাকায়।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে ১নং রামগড় ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আবদুল জলিল একই এলাকার স্বামী পরিত্যাক্ত সুফিয়া বেগম (২৮) এর সরলতার সুযোগ নিয়ে তাকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে ঐ মেম্বারের লালসার শিকার সুফিয়া বেগম গর্ভবতী হয়ে যায়। তখন সুফিয়া তার গর্ভধারনের বিষয়টি লম্পট নারীলোভী জনপ্রতিনিধি আবদুল জলিলকে জানালে সে কৌশলে তার রাজনৈতিক প্রভাবে ঘটনা এড়িয়ে যায়। এক পর্যায়ে লম্পট ইউপি মেম্বার গর্ভপাত ঘটনোর জন্য তাকে চাপ প্রয়োগ করে বলে জানায় নির্যাতিতা সুফিয়া বেগম।
তখন নিরুপায় হয়ে সুফিয়া বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে বিচারের জন্য দ্বারস্থ হলেও কোন বিচার পায়নি। সেখানে বিচার না পেয়ে সুফিয়া বেগম বিষয়টি স্থানীয় রামগড় উপজেলা মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ করলে তারা বিষয়টি নিয়ে গড়িমসি করে। এক পর্যায়ে মানবাধিকার কমিশনের নেতা মো: আনোয়ার হোসেন বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগে বলেও অভিযোগ সুফিয়া বেগমের।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা মানবাধিকার কমিশনসহ স্থানীয় নেতারা বিষয়টির সমাধান না দিলে সুফিয়া বেগম লম্পট ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আবদুল জলিলের বিরুদ্ধে ছয়মাস আগে খাগড়াছড়ির আদালতে নারী নির্যাতান আইনে মামলা করেন। কিছুদিন আগে অভিযুক্ত ইউপি মেম্বার ও আওয়ামীলীগ নেতা আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।
শুধুমাত্র আওয়ামীলীগ নেতা হওয়ার কারনেই নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধের পরও নারী নির্যাতনকারী এ নেতা সব জায়গা থেকে পার পেয়ে যাচ্ছে। ধর্ষক ইউপি মেম্বার প্রভাবশালী হওয়ার কারণে এনিয়ে স্থানীয় কেউ মুখ খুলতেও সাহস করছেনা।
এদিকে লম্পট মেম্বারের লালসার শিকার সুফিয়া বেগম তিন মাস পুর্বে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে সুফিয়া তার সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের জন্য দ্বারে-দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার জিজ্ঞাসা একটাই এ নিষ্পাপ শিশু কি তার পিতৃ পরিচয় পাবে না ? নাকি পিতৃ পরিচয়হীন হিসেবে এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে এ শিশু কন্যাটি। সুফিয়া বেগম তার কন্যা সন্তানের স্বীকৃতি চায়।
সুফিয়া বেগম তার সন্তানের পিতৃপরিচয় ও সুবিচার পাওয়ার দাবীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাব সামনে অনশন করবেন বলে পার্বত্যনিউজকে জানিয়েছেন।
এদিকে রাষ্ট্রিয় আইনে কাউকে সমাজচ্যুত করার সুযোগ না থাকলেও লম্পট ইউপি মেম্বার কর্তৃক নির্যাতনের শিকার সুফিয়া বেগমসহ তার পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়। সমাজের ইমামকে তার বাড়িতে মিলাদের জন্য দাওয়াত দেয়া হলেও ইমামকে যেতে দেয়নি সমাজের মাতব্বররা। তার ছোট বোন তাছলিমা আকতারের বিয়ে ঠিক করা হলেও তাদেও বাড়িতে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করতে দেয়নি তারা। পরে নিরুপায় হয়ে বলিপাড়া তার মামা নুরুল হক মাষ্টারের বাড়িতে বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয় বলে জানান সুফিয়া বেগম।
ইউপি মেম্বারের লালসার শিকার স্বামী পরিত্যাক্তা সুফিয়া বেগম কি বিচার পাবেনা? নিষ্পাপ সন্তানের পিতৃপরিচয়ের জন্য কত দিন ঘুরে বেড়াবে এই সুফিয়া বেগম ? জনপ্রতিনিধি লম্পটদের লালসার শিকার হয়ে আর কতো সুফিয়ারা এভাবে বিচারের জন্য ঘুরে বেড়াবে মানুষের দুয়ারে-দুয়ারে ? তারা কি কখনো ন্যায় বিচার পাবেনা ? নিষ্পাপ কণ্যা সন্তান কি স্বীকৃতি পাবেনা ?
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জলিল মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, সুফিয়ার সাথে তার এ ধরণের কোনো সম্পর্ক নেই, ছিলনা। তার সাথে টাকা পয়সা লেনদেনের সম্পর্ক ছিল। সেটা পরিশোধ করার পর সে এ অভিযোগ তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে অনেক শালিস দরবার হয়েছে জানিয়ে জলিল মেম্বার বলেন, তিনি সবাইকে ঐ সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষার কথা বলেছেন, ডিএনএ পরীক্ষায় যদি তিনি দোষী প্রমাণিত হন তাহলে তিনি এ সন্তানের দায় নিতে রাজি আছেন।
অন্যতিকে সুফিয়ার বক্তব্য ডিএনএ পরীক্ষা কি কিভাবে দিতে হয় তিনি তা জানেন না। তবে সন্তানের স্বীকৃতি পেতে যে কোনো কঠিন পরীক্ষা মোকাবেলা করতে তিনি প্রস্তুত। তবে এ পরীক্ষার খরচ চালানোর সামর্থও তার নেই। এলাকাবাসীর অভিযোগ তবে কি এ শিশু সন্তান তার পিতৃত্বের স্বীকৃতি পাবে না?




















জনপ্রতিনিধি যদি লম্পট হন তবে লম্পটের বিচার করবে কে ? এ লম্পট জনপ্রতিনিধি কি বিচারের বাইরে থেকে যাবে। তার কি বিচার হবেনা ?
সুফিয়ার সন্তান কি পিতৃ পরিচয় পাবেনা ?