আওয়ামী সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবে খাগড়াছড়ি আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে- দাবী জেলা বিএনপির

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :

আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে বলে দাবী করেছে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি। ৫ জানুয়ারী পরবর্তী সহিংসতায় নিরাপত্তাহীনতায় শুধু বিএনপি নেতাকর্মীরাই নয়, বরং তাদের এহেন তাণ্ডবে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে এ জেলার সাধারণ জনগণও। শুক্রবার জেলা বিএনপি’র দেয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “৫ জানুয়ারী‘র পরবর্তী সহিংসতায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ক্যাডাররা বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডবলীলা চালিয়ে যাচ্ছে। ৭১’র স্টাইলে রাতের অন্ধকারে পুলিশের উপস্থিতিতে বিএনপি সমর্থিতদের বাসা-বাড়ীতে হানা দিচ্ছে। আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসীরা বিএনপি নেতাকর্মীদের না পেয়ে তারা মা-বোনদের ইজ্জতের উপর হাত দিচ্ছে বলেও দাবী করেছে বিএনপি। এখানকার পুলিশ প্রশাসন রহস্যজনক কারনে নীরবতা পালন করছে দাবী করে বলেন, জেলার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষার্থে জেলার যুব সমাজকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি‘র সহ-দপ্তর সম্পাদক মো: আবু তালেব মেম্বার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, “৫ জানুয়ারী বিএনপি’র গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা পুর্ব পরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়। পুলিশের টিয়ারশেলে ছাত্রলীগের ৭জন ক্যাডার আহত হলেও মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ ও জেলা আওয়ামীলীগ বিএনপিকে ঘায়েল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাদের মিথ্যা মামলায় শুধু বিএনপি নেতাকর্মীরাই হয়রানীর শিকার হচ্ছে না বরং তারা এতো বেশী দেউলিয়াত্ব আচরণ করছে যে, মিথ্যা মামলায় জেলা বার এসোসিয়েশনের সিনি: আইনজীবি ও জেলা বিএনপি’র আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. আব্দুল মালেক মিন্টুসহ একাধিক উপজেলা চেয়ারম্যানসহ মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র ও খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি‘র সাধারন সম্পাদক আবু ইউসুফ চৌধুরীসহ তিন শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা রুজু করেছে।

বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের দায়ের করা মিথ্যা মামলায় এ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক মিন্টু এবং পুলিশের হয়রানিমূলক গ্রেফতারের শিকার বিকেএসপি অনুর্ধ-১৬ দলের খেলোয়াড় মো: রনি (১৫) আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

আওয়ামীলীগের ক্যাডাররা প্রতিনিয়ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারালো অস্ত্র-স্বস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশ পাহারায় মহড়া অব্যাহত রেখেছে দাবী করে বিবৃতিতে উল্লেখ করে বলা হয়, খাগড়াছড়ির জনগণ বিএনপি‘র লাগাতার সড়ক অবরোধ কর্মসূচী স্বত: স্ফুর্তভাবে গ্রহণ করলেও ছাত্রলীগ ক্যাডাররা জীপ গাড়ীতে করে সন্ত্রাসী স্টাইলে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি-শোটা নিয়ে পুলিশ প্রহরায় মহড়া দিচ্ছে। তাদের এহেন তান্ডব ও মহড়ায় জনগণ ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে দিনযাপন করছে”।

বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর হামলা, গুপ্ত হামলা অব্যাহত রেখেছে দাবী করে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, “৫ জানুয়ারী‘র পর আওয়ামলীগের ক্যাডাররা পুরো জেলায় বিএনপি’র শতাধিক নেতাকর্মীকে কুঁপিয়ে জখম করেছে। জেলা সদরের শালবন এলাকায় খাগড়াছড়ি পৌর বিএনপি‘র সহ-সভাপতি এবং ৪,৫ও ৬নং সংরক্ষিত ওয়ার্ড‘র মহিলা কাউন্সিলর সহ একাধিক বিএনপি নেতাকর্মীর বাসাবাড়ীতে আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসী জামালের নেতৃত্বাধীন অস্ত্রধারী ক্যাডাররা তান্ডবলীলা চালিয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের একাধিক নেতা-কর্মী প্রতি রাতে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে দাবী করেন তিনি।

এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে বার বার ফোন করলেও কোন পুলিশ কর্মকর্তা এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না অভিযোগ করা হয় বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় সন্ত্রাসীলরা নেতাকর্মীদের না পেয়ে মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে টানাটানি করছে। বাসাবাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করার হুমকি প্রদান করছে। বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয় যে, ক্যাডারদের তান্ডবলীলায় ক্যাডারদের পিছনে পিছনে পুলিশও থাকে। এসব সন্ত্রাসীরা যাকে কুঁপিয়ে গুরুতর আহত করে তাকেই পুলিশ গ্রেফতার করছে। ইতোমধ্যে ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের ৩ নেতাকর্মীকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ তাদের নিরপক্ষেতা হারিয়েছে” বলেও বিবৃতিতে দাবী করা হয়। পুলিশ এখনো পর্যন্ত কোন আওয়ামী সন্ত্রাসীকে আটক বা গ্রেফতার না করে নিজেদের অক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছে” বলেও বিবৃতিতে দাবী করেন তিনি।

আওয়ামীলীগ সন্ত্রীদের হাতে শুধু বিএনপি নেতাকর্মী নয়, রক্ষা পায়নি গ্রামের নিরীহ মানুষ এমন দাবী করে বিবৃতিতে বলা হয়, “গতকাল (বৃহস্পতিবার) জেলা শহরের এডিসিহিল এলাকায় আওয়ামীলীগ ক্যাডার জামালের নেতৃত্বে কোর্টের রাইটার মাসুদুর রহমান (৩৫) ও কাঠমিস্ত্রী মোক্তার হোসেন (৩০) ও কলেজ গেইট মোহাম্মদপুর এলাকার বিএনপি নেতা মো. গোলাম মাওলা (৫৫) কে কুঁপিয়ে জখম করে। কাঠমিস্ত্রী মোক্তার হোসেন চিরতরে পঙ্গু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে দাবী করে তিনি বলেন, তাদের কি দোষ ছিল, কেন তাদের উপর এমন বর্বর হামলা চালানো হয়েছে”।

এসব ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ ক্যাডারদের জামাই আদর করছে দাবী করে তিনি বলেন, “স্থানীয় আওয়ামীলীগের ভয়ে, বদলির ভয়ে, চাকুরী হারানোর ভয়ে পুলিশ নীরবতা পালন করছে। যেন এখানকার আওয়ামীলীগ ক্যাডারদের অবৈধ অস্ত্র গুলো পুলিশের বৈধ অস্ত্র দিয়ে পাহাড়া দেয়া হচ্ছে!

খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপি এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারসহ মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষার্থে যুব সমাজকে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করায় জেলার পেশাগত সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানানো হয়।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন