ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের বাধায় কাউখালীতে মানবিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতদরিদ্র মানুষ

fec-image

রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাউখালী উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি জরুরি মানবিক উদ্যোগ, সশস্ত্র গোষ্ঠী ইউপিডিএফ (প্রসীত) দলের সন্ত্রাসীদের বাঁধার মুখে পড়ে শতাধিক অসহায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠী বিনামূল্যে প্রাপ্ত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এ ধরনের কার্যকলাপকে স্থানীয় সচেতন মহল ‘মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। কিন্তু ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলছে না।

সোমবার (১০ নভেম্বর, ২০২৫) সকাল ০৯টায় কাউখালী আর্মি ক্যাম্পের পক্ষ থেকে কাউখালী উপজেলাধীন ৩ নং ঘাগড়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের প্রত্যন্ত হারাঙ্গিপাড়া এলাকায় স্থানীয় হতদরিদ্রদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই মানবিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণের জন্য প্রস্তুত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের সব প্রস্তুতি সম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও সবাই স্বাভাবিক ভাবে চিকিৎসা সেবা নিতে পারেননি। ইউপিডিএফ (প্রসীত) দলের সন্ত্রাসীদের সুস্পষ্ট নির্দেশনায় এবং চরম ভীতি ও হুমকির কারণে স্থানীয় অসহায় পাহাড়ি জনসাধারণের অধিকাংশই ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে যায়নি।

চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত স্থানীয় একজন প্রত্যক্ষদর্শী নারী অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, “ইউপিডিএফ কর্মীরা আমাদের জোরপূর্বক বাড়িতে থাকতে বাধ্য করেছে এবং কঠোরভাবে হুমকি দিয়েছে, যাতে কেউ সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে না আসে। আমরা অসহায় গরীব মানুষ, শহরে গিয়ে চিকিৎসা করানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। সেনাবাহিনী যেহেতু বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার আয়োজন করেছে শুনে অনেক আশা নিয়ে সেবা নিতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু ইউপিডিএফ (প্রসীত) দলের কর্মীরা আমাদের কঠোরভাবে হুমকি দিয়েছে যেন আমরা এই সেবা গ্রহণ না করি।”

ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের এই অমানবিক কার্যকলাপের নিন্দা জানিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক কার্বারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সেনাবাহিনীর এই মহতী উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে, ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীরা তাদের ‘হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করছে এবং মৌলিক মানবাধিকার— অর্থাৎ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “ইউপিডিএফ’র এই জিম্মি করার রাজনীতি পাহাড়ের শান্তি প্রক্রিয়া ও জনকল্যাণমূলক কাজে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। এই কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে যে তারা (ইউপিডিএফ) সাধারণ মানুষের কল্যাণের চেয়ে ক্ষমতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকেই বেশি গুরুত্ব দেয়।”

এদিকে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল ইউপিডিএফ (প্রসীত) দলের সন্ত্রাসীদের এই অমানবিক কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা এবং এই ঘটনাকে ‘মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন’ উল্লেখ করেছেন। তারা দ্রুত এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে পাহাড়ের সাধারণ মানুষ শঙ্কামুক্ত পরিবেশে তাদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ইউপিডিএফ, চিকিৎসা সেবা, সন্ত্রাসী
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন