জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের ৬২তম অধিবেশনে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আবারও তীব্র বাক্যবিনিময় হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত এই সভায় দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তোলে, যার ফলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় আসে।
অধিবেশনে পাকিস্তান ও অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি) জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করে ভারতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করে। এর জবাবে ভারত কঠোর ভাষায় পাল্টা অবস্থান জানায়।
জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের প্রথম সচিব অনুপমা সিং পাকিস্তানকে ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে আশ্রয়, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়ে আসছে, যা এখন নিজ দেশের জন্যই বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, “নিজের তৈরি দানব যখন ফিরে এসে কামড়ায়, তখন অবাক হওয়ার কিছু নেই।”
তিনি পাকিস্তানের নীতিগত অবস্থানকে এক ধরনের প্যারাডক্স হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন, দেশটির একাংশ রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ত্রাসবাদীদের ব্যবহার ও প্রশিক্ষণের কথা স্বীকার করলেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তান নিজেকে সন্ত্রাসবাদের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করে।
এছাড়া পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অনুপমা সিং। তার ভাষায়, রাওয়ালপিন্ডি ও আশপাশের অঞ্চলে দমন-পীড়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিতকরণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা উদ্বেগজনক।
কাশ্মীর প্রসঙ্গে পাকিস্তানের অভিযোগের জবাবে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।