টেকনাফে সিমেন্ট পাচারের মূলহোতাসহ আটক ১৪

মায়ানমারে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ ১৪ জন পাচারকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও র্যাবের যৌথ বাহিনী। গতকাল সোমবার ভোররাতে সেন্টমার্টিনের উত্তর-পশ্চিম সংলগ্ন গভীর সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালায় তাদের আটক করে বিসিজি স্টেশন সেন্টমার্টিন
কোস্ট গার্ড জানায়, সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোরে মায়ানমারে সিমেন্ট পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেন্টমার্টিনের উত্তর-পশ্চিম সংলগ্ন গভীর সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালায় কোস্টগার্ড। এ সময় একটি সন্দেহজনক ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৯০০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করা হয়। একইসঙ্গে পাচার কাজে ব্যবহৃত বোটসহ ১৩ জনকে আটক করা হয়। আটক বোটের মাঝির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন বিকালে কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী এলাকায় কোস্ট গার্ড ও র্যাব-১৫ (সিপিসি-২) যৌথ অভিযান চালিয়ে পাচার চক্রের মূলহোতা মো. আজিম উল্লাহ (৪০) কে গ্রেপ্তার করে।
কোস্টগার্ড আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আজিম উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে মায়ানমারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি মায়ানমারে অবস্থানকারী এক ব্যক্তির কাছ থেকে পণ্যের চাহিদা নিয়ে চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ ও হাতিয়া এলাকার কিছু বোট মালিকের সহযোগিতায় এসব পণ্য পাচার করতেন। এসব পণ্য মায়ানমারের নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’র কাছে সরবরাহ করা হতো বলেও জানা গেছে। এছাড়া পাচারের বিনিময়ে তিনি মাদক, বিদেশি সিগারেটসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ পণ্য দেশে আনার চেষ্টা করতেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির পর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
জব্দ সিমেন্ট, বোট ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
পাচার ও চোরাচালান রোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

















