তাইন্দং সহিংসতাকে পুঁজি করে বানিজ্যে নেমেছে পাহাড়ীরা
মুজিবুর রহমান ভুইয়া, তাইন্দং থেকে ফিরে :
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার তাইন্দংয়ে সুষ্ট সহিংসতাকে পুঁজি করে বানিজ্যে নেমেছে স্থানীয় কথিত ক্ষতিগ্রস্থ পাহাড়ীরা। সহিংসতার প্রথম তিন দিনে স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ সেনাবাহিনী-বিজিবি এবং বিভিন্ন সংস্থা হতে যে পরিমান ত্রান সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে তাতে তাদের স্বাবাবিক জীবন-যাপন শুরু করার সুযোগ থাকলেও কথিত ক্ষতিগ্রস্থ পাহাড়ীরা তা না করে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে ত্রানের জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি বসতে থাকতে দেখা গেছে।
সহিংসতার ১৯ দিনের মাথায় এসেও তারা সরকারের পদস্থ কর্তাব্যাক্তি সহ ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শনে আসা বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের কাছে সরকারী ত্রান সামগ্রী না পাওয়ার অভিযোগ করে চলেছে। ঘটনার ১৯ দিন পরেও তাদের মধ্যে প্রাপ্তি আর তৃপ্তির ঢেকুর লক্ষ্য করা যায়নি। অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ৩৫টি পাহাড়ী পরিবারকে গৃহ নির্মানের জন্য নগদ নয় হাজার টাকা ও তিন বান্ডিল করে টিন বিতরণ করা হলেও তারা এখনও বসতঘর মেরামতের কাজ শুরু করেনি। উপরন্ত বরাবরই তারা স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে নালিশ করে আসছে।
এক সরকারী হিসাব মতে দেখা গেছে ঘটনার পর ৫ আগষ্ট থেকে এ পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ৩৫টি পাহাড়ী পরিবার নগদ সাড়ে ১৬ হাজার টাকা, তিন বান্ডিল ঢেউটিন ছাড়াও তাৎক্ষনিকভাবে প্রত্যেক পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাউল, শুকনা খাবার, ডাল ও চিনি এবং থাকার জন্য তাবু টানিয়ে দেয়া হয়েছে। নিজেদের ছড়ানো গুজবে আতঙ্কিত হয়ে গ্রাম ছেড়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নো-মেন্স ল্যান্ডে আশ্রয় নেয়া ৫৪৮ পরিবারকে ফিরিয়ে এনে ৩০ কেজি চাউল, শুকনা খাবার, ডাল, চিনি ও নগদ তিন হাজার করে টাকা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ তিনটি বাঙ্গালী পরিবারকেও নগদ সাড়ে ১৬ হাজার টাকা, তিন বান্ডিল ঢেউটিন ছাড়াও অন্যান্য ত্রান সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও পাহাড়ীদেরকে বিজিবির পক্ষ থেকে তৈজসপত্র এবং কাপড়-ছোপড় প্রদান করা হয়েছে। গুইমারা রিজিয়ন ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে চিকিৎসাসেবা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও স্বর্বেশ্বরপাড়ায় এক লাখ টাকা ব্যয়ে নবরতœ বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ এবং অন্য একটি বিহার মেরামত করে দেয়া হয়েছে বিজিবির পক্ষ থেকে।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন হতে প্রাপ্ত ত্রান বিতরনের তথ্যমতে দেখা যায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় এ পর্যন্ত ২৩ হাজার ৯১০ কেজি চাল, ৪৪৯ কেজি ডাল, ৫২৬ কেজি চিনি, ৭০৮ কেজি চিড়া, ২১৮ কেজি গুড়, বিশুদ্ধ খাবার পানি, পর্যাপ্ত কাপড়-ছোপড় এবং তৈজসপত্র সহ প্রায় অর্ধকোটি টাকার উপরে ত্রান সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে পাহাড়ীরা একটি বিশেষ গোষ্ঠির দ্বারা প্রভাবিত হয়েই বাড়ি-ঘর মেরামত করছেনা। সরকারের নির্দেশে বিজিবি ক্ষতিগ্রস্থদের বাড়ি-ঘর নির্মাণের প্রস্তুতি নিলেও তাদের অসহযোগীতাসহ অজ্ঞাত কারণে তাদের বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করা যাচ্ছেনা। তাদের বাড়ি-ঘর নির্মানে রয়েছে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা। ঐ বিশেষ গোষ্ঠির সহায়তায় বাঙ্গালীদের পাশাপাশি বিজিবি-পুলিশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে সেখানকার পাহাড়ীরা। তারা আগামী ছ‘মাসেও বাড়ি-ঘর মেরামতের কাজে হাত দেবেনা বলেও এ সুত্রটি নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনাকে পুজি করেই তারা ভিনদেশীদের কাছে দেশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করে তারা আদিবাসীর স্বীকৃতি আদায়ে লড়ে যাবে।
তাইন্দং সহিংসতাকে পুজি করে তারা একদিকে যেমন স্থানীয় বাঙ্গালীদের বিরুদ্ধে পাহাড়ী গ্রামে অগ্নিসংযোগ, হামলা ও লুটপাটের মতো কাল্পনিক অভিযোগ করছে অন্যদিকে সরকারী ত্রান সহায়তা না পাওয়ার কথা বলে স্থানীয় প্রশাসন বা সরকারের বিরুদ্ধেও সমানতালে অপপ্রচার করছে বলে মনে করছেন এখানকার সচেতন মহল। স্থানীয়রা মনে করে বিশেষ একটি গোষ্ঠির ইন্ধনেই পাহাড়ীরা তাইন্দং সহিংসতাকে পুজি করে সমানতালে বাঙ্গালী ও সরকার বিরোধী প্রচারনা অব্যাহত রেখেছে।



















