দেশ রক্ষায় লড়াই করতে বন্দিদের মুক্তি দেবে ইউক্রেন

fec-image

রুশ সামরিক বাহিনীর ব্যাপক হামলায় এই কয়েকদিনেই পূর্ব ইউরোপের ছবির মতো সুন্দর এই দেশটির অনেক এলাকাই পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তুপে।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাশিয়া হামলা চালানোর পর থেকেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে শুরু করেছে। এদিকে, দেশের জন্য লড়াই করতে কারাগারে বন্দি থাকা লোকজনকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

তিনি জানিয়েছেন, লড়াই করার অভিজ্ঞতা আছে এমন বন্দিদের কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হবে। দেশের কাছে তাদের অনেক ঋণ রয়েছে। রুশ সেনাদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে লড়াই করে তারা দেশকে শত্রুর হাত থেকে মুক্ত করবেন।

জেলেনস্কি বলেন, সামরিক আইনের অধীনে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বন্দিদের কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করে তারা তাদের অপরাধের ক্ষতিপূরণ দিতে পারবেন।

তিনি বলেন, আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তা নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এতটা সহজ বিষয় নয়। কিন্তু আমাদের প্রতিরক্ষার দৃষ্টি থেকে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমাদের প্রতিরক্ষা। ২০১৯ সালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় বসেন জেলেনস্কি।

এদিকে রাশিয়ার কামানের গোলায় ইউক্রেনের কমপক্ষে ৭০ সেনা নিহত হয়েছেন। দেশটির কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, রোববার তাদের একটি সামরিক ঘাঁটিতে রাশিয়ার কামানের গোলার আঘাতে এসব সেনা নিহত হয়েছেন।

দেশটির সামি অঞ্চলের ওখতিরকা এলাকায় ওই হামলার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে রুশ বাহিনী ওই অঞ্চল অবরুদ্ধ করে রেখেছে। ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে জীবিতদের উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন জরুরি সেবায় নিয়োজিত উদ্ধারকর্মীরা।

অপরদিকে মঙ্গলবারও তীব্র লড়াই চলছে। রাশিয়ার একটি বিশাল সামরিক বহর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে, সামরিক ওই বহরটি প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ। স্যাটেলাইট কোম্পানি ম্যাক্সার টেকনোলজি সম্প্রতি ওই ছবি প্রকাশ করেছে।

স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ২০ মাইলের কম দূরত্বে অবস্থান করছেন রুশ সেনারা। তাদের সঙ্গে সামরিক যান, যুদ্ধ বিমান ও হেলিকপ্টার বেলারুশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থান করছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বলছে, রাশিয়ার সেনাবাহিনী রাজধানী কিয়েভের উপর হামলা শুরু করেছে।

ওই বহরটিতে কয়েকশ সামরিক যান রয়েছে এবং তারা ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উত্তরে ইভানকিভ শহরের কাছাকাছি আছে বলে জানিয়েছে ম্যাক্সার।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন