প্রস্তাবিত বন আইন পার্বত্য চট্টগ্রামের বিদ্যমান আইনের সাথে সাংঘর্ষিক- আলোচনা সভায় বক্তারা
স্টাফ রিপোর্টার:
পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য প্রযোজ্য আইন সমূহে কেবল রিজার্ভ বন ছাড়া বাকি বনভূমির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোকে দেয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিদ্যমান আইনের সাথে প্রস্তাবিত সংশোধনী সাংঘর্ষিক।
এছাড়া প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বিবিধ বন বা Other forest-এর বিধান সম্পর্কে শঙ্কা প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, এ ধরণের বিধান আইনে সংযোজিত হলে বনবিভাগ কর্তৃক পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ বন সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের আরো ভোগান্তি ও হয়রানীর সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বন আইনকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বান্ধব হতে হবে উল্লেখ করে পরিবেশবিদরা বলেছেন, বনবাসীদের অধিকার রক্ষা করে নতুন বন আইন করতে হবে। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ আইন করতে হবে বলেও দাবী জানিয়েছেন তারা।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘বন আইন সংশোধনী প্রস্তাব ২০১৫ এবং বন সংশ্লিষ্ট জনমানুষের অধিকার’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলন যৌথভাবে এ গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে।
আলোচনা অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)-র প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজ্ওয়ানা হাসান এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ১৯৫০ সালে প্রজাস্বত্ব আইনের মাধ্যমে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়েছিল। ১৯২৭ সালের বন আইনের কোনো পরিবর্তন হয়নি। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলেও নব্য বন-জমিদারের ভূমিকায় থেকে যায় বন বিভাগ। প্রস্তাবিত বন আইনের সংশোধনী বন বিভাগের জমিদারিকে আরও পাকাপোক্ত করবে। এই প্রস্তাব বনবাসী বা বননির্ভর মানুষকে আরও প্রান্তিকতার দিকে ঠেলে দেবে। বন বিভাগের ক্ষমতাকে আরও পোক্ত করবে।
অপর প্রবন্ধ উপস্থাপক পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা তার প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বলেন, ‘আদিবাসীদের জীবন, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে বন ও ভূমি। সর্বত্রই আদিবাসীরা বন ও ভূমিকে পবিত্র হিসেবে গণ্য করে। তাই বন আইন করার ক্ষেত্রে আদিবাসীদের প্রস্তাবকে অগ্রাধিকার দিতে হবে’।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাংসদ মো. ইয়াসীন আলী বনবিভাগের বেশ কিছু সংখ্যক কর্মকর্তার দুর্নীতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের অনেকে দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে বন সাবাড় হয়ে যায়। তবে বন ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কর্তৃপক্ষও তো রাখতে হবে। বন বিভাগের উচিত, বননির্ভর মানুষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করা।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, বন আইন সংশোধন নয়, নতুন আইন দরকার।
অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, ‘আদিবাসীদের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি, চলফেরা, কৃষ্টি-কালচারে যাতে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রেখে নতুন বন আইন করা প্রয়োজন। অদিবাসীদের অধিকার রক্ষা করেই বন সংরক্ষণ করতে হবে’।
নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশি কবিরের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরো অংশ নেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি গৌতম দেওয়ান, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য গৌতম কুমার চাকমা, গবেষক ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. সাদেকা হালিম প্রমুখ।


















