বার্ন ইনস্টিটিউটে কান্না আর আহাজারি

fec-image

বার্ন ইনস্টিটিউটে চলছে স্বজনদের কান্না আর আহাজারি। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় আহতদের জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা চলছে। এখনো জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সামনে চিৎকার, কান্না, আহাজারি আর রক্তের জন্য আকুতি যেনো থামছে না। সব মিলিয়ে সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

গতকাল সন্ধ্যায় জরুরি বিভাগের ভেতরে পা ফেলতেই চোখে পড়ে উদ্বিগ্ন মুখের সারি। অনেকেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে, কেউবা মুঠোফোনে বারবার ফোন করে জানতে চাইছেন প্রিয়জনের খবর। কারও চোখ ভেজা, কারও চোখ স্তব্ধ, শূন্য। সবার মুখে মুখে মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনার বর্ণনা।

হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ইনস্টিটিউটের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় চিকিৎসা চলছে বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের। এর মধ্যে চতুর্থ তলায় আইসিইউ।

গতকাল রক্ত দিতে আসা মানুষের সংখ্যাও কম ছিল না। হাসপাতালের এক পাশে দাঁড়িয়ে মাইকিং করে বলা হচ্ছে, ‘এই মুহূর্তে রক্তের প্রয়োজন নেই। আপনারা পরে যোগাযোগ করুন।’ তবু কেউ সরছেন না। দাঁড়িয়ে থাকছেন, হয়তো আবার ডাক আসবে এমন আশা নিয়ে। এমনই একজন আসাদুল ইসলাম। তিনি বললেন, ‘আমার রক্তের গ্রুপ ও পজিটিভ। এখন না লাগুক, পরে তো লাগতেই পারে। বাচ্চাগুলো তো শেষ হয়ে গেল, ভাই।’

শুধু হাসপাতালের নয়—এই রাত যেন গোটা শহরের এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন। শুধু যাঁরা সন্তান হারিয়েছেন, তারাই নন—যাঁরা বেঁচে আছেন, তাঁদের মনেও রয়ে যাবে গভীর ক্ষত।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন