মাদ্রাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, অবশেষে সেই শিক্ষক গ্রেপ্তার

fec-image

নেত্রকোনার মদনে ১১ বছরের মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার আসামি আমান উল্লাহ সাগরকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। মামলার ১৩ দিন পর আজ বুধবার ভোরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-১৪ মিডিয়ার দায়িত্বে থাকা কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুজ্জামান।

তিনি জানান, এ বিষয়ে আজ বুধবার দুপুর ১২টায় ময়মনসিংহ আকুয়া বাইপাস এলাকায় র‍্যাবের ব্যাটালিয়ন সদরে প্রেস ব্রিফিং করা হবে।

মদন থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলামও গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামিকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছে। আজ দুপুরে র‌্যাব তাকে আমাদের হাতে হস্তান্তর করবে।

নেত্রকোনার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহাড় বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে আমান উল্লাহ সাগর। তিনি ওই গ্রামের হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমান উল্লাহ সাগর মদন পাঁচাহাড় গ্রামে ২০২২ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে তার স্ত্রীও শিক্ষকতা করেন। ওই মাদ্রাসায় স্থানীয় এক কিশোরী লেখাপড়া করত। তার মা সিলেটে গৃহপরিচালিকার কাজ করেন। মেয়েটি নানির কাছে থাকে।

গত বছরের নভেম্বর মাসে আমান উল্লাহ সাগর মেয়েটিকে মাদ্রাসায় ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি কাউকে জানালে মেরে ফেলা হবে বলে ভয় দেখান সাগর। বিষয়টি আরেকজন শিক্ষককে জানালে মেয়েটিকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেন আমান উল্লাহ। পাঁচ মাস পর কিশোরী মেয়েটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়। সন্দেহ হলে মেয়েটির মা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর দ্বারা ধর্ষণের শিকার হওয়ার বিষয়টি তার মাকে জানায়।

ঘটনাটি জেনে কিশোরীর মা এলাকায় বিচার চাইতে যান। আমান উল্লাহর পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় বিচার না পেয়ে উল্টো তাদের হুমকিতে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। এ ঘটনায় ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে আমান উল্লাহ সাগরসহ দু’জনের বিরুদ্ধে মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

এরপর থেকে শিক্ষক আমান উল্লাহ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এরই মধ্যে মঙ্গলবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমান উল্লাহর আত্মপক্ষ সমর্থনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ৫ মিনিট ৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে ওই শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, অসুস্থতার জন্য তিনি কথা বলতে পারছেন না। তারপরও বিষয়টি পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করছেন।

দেশের আইন ও বিচারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আছেন জানিয়ে তিনি দাবি করেন, তাকে নিয়ে অপপ্রচার চলছে। তার বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। মেয়েটি একসময় তার মাদ্রাসায় পড়লেও ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে তিনি জড়িত নন। তিনিও চান প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হোক।

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘দেশের আইন আছে, সে আইন সঠিক অপরাধী যে, তাকে খুঁজে বের করবে। আপনারা অপরাধী খুঁজে বের করার আগেই যদি আমাকে অপরাধী বানিয়ে ফেলেন, তাহলে তো আসল অপরাধী পার পেয়ে যাবে।’

মামলা দায়েরের পরও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশ্ন দেখা দেয়। পুলিশের দাবি, অভিযান চালিয়েও তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: অন্তসত্ত্বা, ধর্ষণ, মাদ্রাসাছাত্রী
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন