ইসলামাবাদে শুরু হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা


দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র অবশেষে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এ আলোচনা শুরু হবে। তেহরানের প্রস্তাবিত ১০ দফার ভিত্তিতেই বৈঠকটি এগোবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করেছে। তিনি বলেন, ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফাকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্য মনে করছে ওয়াশিংটন, এবং অধিকাংশ বিষয়ে ইতোমধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে তিনি হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ইরানের ওপর হামলা বন্ধ থাকলে তাদের সশস্ত্র বাহিনীও প্রতিরক্ষামূলক অভিযান স্থগিত রাখবে। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব, তবে এ ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় অপরিহার্য।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তিনি উভয় পক্ষকে আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার, মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ, যুদ্ধক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ, যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা।
তবে আলোচনায় সম্মত হলেও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছে না। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সতর্ক করে দিয়েছে, কোনো ধরনের উসকানি বা ভুল পদক্ষেপের জবাব তারা কঠোরভাবে দেবে। এ বিষয়ে এখনো ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্রঃ আল জাজিরা

















