অবরোধ পালন তো দুরের কথা নিজেরাই মানেনি মাটিরাঙ্গা বিএনপি’র সিনিয়র নেতৃবৃন্দ
মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি, পার্বত্যনিউজ :
আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসীল বাতিলের দাবীতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৪৮ ঘন্টার রেলপথ, নৌপথ, জলপথ ও সড়ক পথ অবরোধ কর্মসুচীর দ্বিতীয় দিনে মাটিরাঙ্গায় নিরুত্তাপ অবরোধ পালিত হয়েছে। অবরোধ পালন না করে তা ভেঙ্গে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মোটর সাইকেল চালিয়ে ঘুরে বেড়ানোকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে তৃনমুল কর্মীরা। এদিকে সিনিয়র নেতাদের অবরোধ ভেঙ্গে মোটর সাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ এসব কর্মীরা আজ বুধবার দুপুরের পর নিজেরাই মোটর সাইকেল চালানোর চেষ্টা করে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করে। পরে পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক মো: বাদশা মিয়া‘র ‘বিষয়টি দেখবেন’ এমন আশ্বাসে তার মোটরসাইকেল চালানো থেকে বিরত থাকেন।
এসময় ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালক ও মাটিরাঙ্গা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা দলের কাজ করার পাশাপাশি ভাড়ায় মোটর সাইকেল চালিয়ে সংসার চালাই। আমরা দলের কর্মসুচী পালনে মাঠে থাকার পাশাপাশি হরতাল অবরোধে নিজেরা মোটর সাইকেল বের করি না। এসময় আমাদের পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। অথচ দলের বড় বড় নেতারা অবরোধের মতো কর্মসুচী ভেঙ্গে ভাগাভাগির টেন্ডার জমা দিতে মোটর সাইকেল মহড়া দিয়ে জেলা সদরে যায়।
অপর তৃণমুল নেতা ও ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালক মো: ফারুক হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা দলের কর্মীদের অন্যদের মোটর সাইকেল আটকানোর আদেশ দেন, অন্যদিকে নিজেরাই মোটর সাইকেল চালান। এটা কিভাবে হয়।
মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো: জাকির হোসেন বলেন, মাটিরাঙ্গার বড় বড় নেতারা সব সময় আওয়ামীলীগের কাছে ভালো থাকে আর আমাদের মতো কর্মীদের শত্রু বানায়। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা দলের কাজ করে আওয়ামীলীগের শত্রু হচ্ছি আর নেতারা তাদের সাথে এখন থেকেই টেন্ডার দিয়ে টাকা কামাই করছে।
অবরোধ ভেঙ্গে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মোটর সাইকেল চালানো এবং সরকারী দলের সাথে আঁতাত করে টেন্ডার দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির এক সিনিয়র নেতা নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঐ সকল নেতারা কি করছে, কেন করছে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন। তারাই উত্তর দিতে পারবে। তবে তিনি তৃণমুল কর্মীদের বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করে ঐসকল নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন।
অবরোধকে ঘিরে বরাবরের মতোই যেকোন ধরনের নাশকতা এড়াতে উপজেলা সদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন ছিল। এদিকে অবরোধ কর্মসুচী ভেঙ্গে মোটর সাইকেল চালিয়ে খাগড়াছড়ির যাওয়ার বিষয়ে জানতে মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো: দেলোয়ার হোসেন এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে তফসীল ঘোষনার পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৪৮ ঘন্টার রেলপথ, নৌপথ, জলপথ ও সড়ক পথ অবরোধ কর্মসুচী পালনে মাঠে সিনিয়র নেতৃবৃন্দ না থেকে উল্টো অবরোধ ভেঙ্গে মোটর সাইকেল চালানোর বিষয়টি নিয়ে বিক্ষুব্ধ তৃণমুল নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সরগরম মাটিরাঙ্গার বিএনপি দলীয় কার্যালয়টি।



















