আবারো আলোচনায় পার্বত্য চট্টগ্রামে বিমানবন্দর নির্মাণের প্রস্তাব

fec-image

আবারো আলোচনায় এসেছে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিমানবন্দর নির্মাণের প্রস্তাব। পর্যটনশিল্পের বিকাশে পার্বত্য খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের যেকোনো উপযুক্ত স্থানে ছোট পরিসরে একটি বিমানবন্দর স্থাপন করতে চায় সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এ ছাড়া সেখানে হাউজিং প্রকল্প গ্রহণের কথাও বলছে তারা। সোমবার (২৩ মে) জাতীয় সংসদ ভবনে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয় বলে সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

এতে আরো বলা হয়, বৈঠকে কাপ্তাই লেককে মাছ চাষের জন্য অধিক উপযোগী করে গড়ে তোলা, জনগণের যাতায়াত সুবিধা এবং পর্যটনশিল্প বিকাশের লক্ষ্যে তিন পার্বত্য জেলায় রেললাইন স্থাপনসহ পার্বত্য জেলার যেকোনো উপযুক্ত স্থানে ছোট পরিসরে একটি বিমানবন্দর নির্মাণ, তিন পার্বত্য জেলায় হাউজিং প্রকল্প গ্রহণসহ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে তিন পার্বত্য জেলায় রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি মহাপরিকল্পনা (মাস্টার প্ল্যান) গ্রহণ করা হয়েছে এবং গৃহীত মহাপরিকল্পনার আওতায় তিন পার্বত্য জেলায় রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে কমিটিকে জানানো হয়।

তিন পার্বত্য জেলার যেসব জমি ব্যক্তি পর্যায়ে বনায়ন করার জন্য লিজ দেওয়া হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত বনায়ন করা হয়নি, সেই জমির বর্তমান অবস্থা কমিটিকে আগামী বৈঠকে জানানোর জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়।

তিন পার্বত্য জেলায় সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জন্য বাসভবন/কোয়ার্টার নির্মাণ এবং পরিকল্পিত হাউজিং এর প্রকল্প গ্রহণসহ পার্বত্য জেলায় বিদ্যুতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে পার্বত্য জেলাসমূহকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি।

কমিটির সভাপতি দবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটির সদস্য পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এবং বাসন্তী চাকমা

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামের সাথে রেল যোগাযোগ স্থাপনের ব্যাপারে বেশকিছু পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নেয়া হযেছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই পর্যন্ত রেল লাইন স্থাপনের একটি পরিকল্পনা। বিমানবন্দর স্থাপনের বিষয়টিও নানা সময় আলোচিত হয়েছে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক মন্তব্যে এটা একরকম চাপা পড়ে গিয়েছিল।

২০১৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পাক্ষিক পার্বত্যনিউজের সংখ্যাটি পর্যটন সংখ্যা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল। সে সংখ্যায় প্রকাশিত সৈয়দ ইবনে রহমতের ‘পর্যটন পরিকল্পনার লক্ষ্য হোক সাজেক থেকে সেন্টমার্টিন’, শীর্ষক লেখায় পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আলোকপাত করা হয়েছিল। লেখাটি পরে অনলাইন সংস্করণেও প্রকাশিত হয়।

পরবর্তীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি ২০১৯) বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ড’র (বিডা)’র নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলামের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে রাঙামাটিতে বিমানবন্দর গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করেন।

মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি ২০১৯) বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ড’র (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম রাঙামাটিতে বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেন। তখন রাঙ্গামাটির কাউখালীর সমতল ভূমিতে বিমানবন্দর নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল বলে জানা যায়।

এর কয়েক দিন পর বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাঙামাটির ১৩২/৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র উদ্বোধনকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার রাঙ্গামাটিতে একটি ছোট বিমানবন্দর স্থাপনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাব দেন। প্রতি উত্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মাটির পাহাড়ে এভাবে বিমানবন্দর করা যাবে না! কিছু সমস্যা আছে, আমাদের প্রচুর রাস্তাঘাট করে দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ পার্বত্যনিউজের অনলাইনে প্রকাশিত ‘মাটির পাহাড়ে বিমানবন্দর হবে না !’ শীর্ষক এক প্রবন্ধে পুরো ব্যাপারটি বিশ্লেষণ করে বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয়তা এবং সম্ভাব্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন গণমাধ্যমটির নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ ইবনে রহমত।

এর পর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম্যে এ বিষয়টি নিয়ে কিছু মন্তব্য পাল্টা মন্তব্য এসেছে বিভিন্ন দিক থেকে। তবে প্রশাসনিক দিক থেকে বিরাজ করছিল অখণ্ড স্থবিরতা।

সর্বশেষ সোমবার (২৩ মে  ২০২২) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে পাহাড়ের উন্নয়ন ও পর্যটন শিল্পের বিকাশে সেখানে একটি বিমানবন্দর নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে। যা বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে এবং পাহাড়ের বাসিন্দাদের মনে সঞ্চারিত হয়েছে আশার আলো।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 2 =

আরও পড়ুন