আবেগঘন পরিবেশে নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জকে বিদায় সংবর্ধনা

fec-image

আবেগঘন পরিবেশে নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাব্বির রহমানকে ঢাকা রেঞ্জে বদলীজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা দিয়েছেন নানিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

শনিবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নানিয়ারচর থানার হলরুমে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নবাগত অফিসার ইনচার্জ সুজন হালদার ও বিদায়ী অফিসার ইনচার্জ মো. সাব্বির রহমানকে উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, নানিয়ারচর প্রেসক্লাব, ইউপি সদস্যবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ফুল, ক্রেস্ট ও গিফ্ট দিয়ে বরণ ও বিদায় জানান।

বিগত প্রায় দেড় বছরে নানিয়ারচর থানাকে যেভাবে একটি মডেল থানায় রুপান্তর করেছিল, অনুষ্ঠানে বক্তাদের তার ভূয়ষি প্রশংসা শিক্ত হন বিদায়ী অফিসার ইনচার্জ মো. সাব্বির রহমান। তিনি সততা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় একজন জনবান্ধব ও মানবিক ওসি হিসেবে সকলে নজর কাড়েন।

উপস্থিত বক্তরা জানায়, মো. সাব্বির রহমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসাবে নানিয়ারচর থানায় যোগদানের পরপরই তার কিছু ব্যতিক্রমী উদ্যেগে পাল্টে যায় নানিয়ারচর উপজেলার দৃষ্টপট। তিনি প্রকাশ্য উপজেলা মাসিক সভা ঘোষণা দিয়েই থানাকে সর্বপ্রথম ঘুষ ও দালাল মুক্ত, সাধারণ মানুষের জন্য পুলিশি সেবা নিশ্চিত করেন। সুন্দর আচারণ ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে আইনগত সেবা প্রদানে নানিয়ারচর থানা বদ্ধপরিকর এই স্লোগান সামনে রেখে করোনাকালীন সময়েও পুলিশি সেবাকে জনবান্ধব, হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে নানিয়ারচর থানায় কুইক রেসপন্স এন্ড বেস্ট প্র্যাকটিস নামে ব্যতিক্রমধর্মী পুলিশি সেবা চালু করেন। পর্যটক, বীরমুক্তিযোদ্ধা, প্রবাসী, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী, নারী ও শিশুদের দ্রুততার সাথে আইনি সেবা দেওয়ার জন্য থানা খোলা হয় আলাদা আলাদা হেল্প ডেস্ক। ব্যতিক্রমধর্মী এসব পুলিশি সেবার সুফল পাচ্ছেন নানিয়ারচর উপজেলার সাধারণ সেবাপ্রত্যাশী মানুষ।

তিনি দ্রুত সময়েরর মধ্যে দীর্ঘদিন মুলতবী থাকা চাঞ্চলকর হত্যা মামলাসহ আলোচিত নানিয়ারচর উপজেলার প্রাক্তন চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা ও ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর সভাপতি বর্মা-সহ ৫ হত্যা মামলা তদন্ত শেষ করে আদালত অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত ৫ বছরের তুলনায় তার সময় উপজেলায় অপরাধের সংখ্যা হ্রাস পায়। তিনি মাদক কার্বারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, বিপুল পরিমাণ ফরমালিনযুক্ত আনারস ও নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল উদ্ধার ও ধ্বংস, গরু চুরি বন্ধ গরুচোরদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি গ্রহণসহ একাধিক চোরাই গরু উদ্ধার, সামাজিক বনায়ন প্রকল্প গ্রহণে ও বিরল প্রজাতির প্রাণীকুল রক্ষাকল্পে জনগণকে উদ্বদ্ধকরণ, উপজেলার এতিম শিশুদের প্রতি বিশেষ সুদৃষ্টি, উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, উপজেলার ক্রীড়াঙ্গকে এগিয়ে নিতে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন, সরকারি পতিত জমিকে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি, ধর্মীয় ও সামাজিক কাজে অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন জনকল্যানমূখী কাজের মাধ্যমে প্রশংসা অর্জন করেন। নানিয়ারচর উপজেলার মতো একটি দুর্গম ও সন্ত্রাসী কবলিত এলাকায় করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের হাসপাতালে পাঠানো, হোম কোয়াইন্টনে থাকা রোগীদের বাসায় ওষুধ ও নিত্যপণ্য পৌঁছানো, আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের হোমকোয়ান্টাইন নিশ্চিত, করোনা ভাইরাসে মৃত ব্যক্তির সৎকার নিশ্চিতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্ব সাথে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে তার নেতৃত্বে নানিয়ারচর থানার পুলিশ কাজ করে।

বক্তরা আরও জানান তিনি নিজের সততা, মেধা, বিচক্ষণতা কর্মদক্ষতা ও মানবিকতার মাধ্যমে নানিয়ারচর উপজেলার শান্তিকামী মানুষের মন জয়ের মাধ্যমে পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তার যোগদানের পর বাঙ্গালী-পাহাড়ি শান্তিকামী মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি শ্রদ্ধা ও আস্থা ফিরে আসে। তিনি বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করে নানিয়ারচর উপজেলার মতো সন্ত্রাসী কবলিত একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড ও বাল্য বিবাহ বন্ধে সফলতা দেখান। এলাকার দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ মিমাংসাসহ এলাকার বহু পুরাতন পারিবারিক ও সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা বিট পুলিশিং এর মাধ্যমে সমাধান করেন। ওসির সততা অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে মাদক নিয়ন্ত্রন ও আইন শৃঙ্খলার ব্যাপক উন্নতি ঘটে। নানিয়ারচর উপজেলার সাধারণ নাগরিকরা বলেন দেশের প্রতিটি থানার ওসি যদি ওসি সাব্বির রহমান সাহেবের মতো সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে তাহলে মাদক, চোরাচালান, ঘুষ, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস মুক্ত এই দেশ হতো বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।

নবাগত অফিসার ইনচার্জ সুজন হালদার বক্তব্যে বলেন, আমি থানা অফিসার ইনচার্জ হিসেবে নতুন। থানার এলাকায় জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক ও সাংবাদিকসহ সকল দপ্তর প্রধান, ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চাই।

বিদায়ী অফিসার ইনচার্জ সাব্বির রহমান বলেন, এখানকার সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিক বন্ধুরা সব সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। কারো সহযোগিতা ছাড়া একা একা পুলিশের পক্ষে সব কিছু করা সম্ভব নয়।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four + nine =

আরও পড়ুন