ইরান যুদ্ধের মাঝেই ফাঁস বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ‘কুকীর্তি’


মধ্যেপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝেই ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে। মার্কিন রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী ও পডকাস্ট সঞ্চালক টাকার কার্লসন তাঁর নির্মিত তথ্যচিত্র ‘দ্য বিবি ফাইল্স’-এ নেতানিয়াহু এবং তাঁর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
তথ্যচিত্রে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তে তাঁর স্ত্রীর প্রভাব ছিল। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়িয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভুল তথ্য ও কৌশলগত প্ররোচনার অভিযোগ তোলা হয়েছে। কার্লসনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এই সংঘাতের সমালোচক ছিলেন এবং তথ্যচিত্রে গোপন সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে নানা তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
আরও বিস্ফোরক অভিযোগ হিসেবে বলা হয়েছে, অতীতে গোপনে গাজায় অর্থ পাঠানোর মাধ্যমে হামাসকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছেন নেতানিয়াহু। যদিও দাবি করা হয়েছে, সেই অর্থ সরাসরি হামাসের সামরিক শাখার কাছে পৌঁছাতে না দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তথাপি সমালোচকদের মতে, এই নীতিই পরবর্তীতে অঞ্চলের অস্থিরতা বাড়িয়েছে।
তথ্যচিত্রে ‘ভাগ করো এবং শাসন করো’ নীতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে গাজা ও ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের মধ্যে বিভাজন বজায় রাখার কৌশল নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগডর লিবারম্যানের বক্তব্যও সামনে আনা হয়েছে।
এছাড়া, মিডিয়া প্রভাবিত করতে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে। ‘ইয়েদিওথ আহরোনোথ’ পত্রিকার প্রকাশকের সঙ্গে সন্দেহজনক লেনদেন এবং সংবাদমাধ্যমকে নিজের পক্ষে ব্যবহার করার চেষ্টা—এই সব বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রসঙ্গে ব্যবসায়ী মিরিয়াম অ্যাডেলসনের কিছু মন্তব্য তথ্যচিত্রে দেখানো হয়েছে, যেখানে তিনি সারা নেতানিয়াহুর আচরণ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন।
ভাইরাল হওয়া একটি অংশে এমনও ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, চরম পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। যদিও এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
এদিকে, ইরান-ইজ়রায়েল সংঘাত ক্রমশ তীব্রতর হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী অবরোধ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং ড্রোন আক্রমণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইজ়রায়েলের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সব ক্ষেত্রে সফল হচ্ছে না বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে সংঘাত কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে ‘দ্য বিবি ফাইল্স’ তথ্যচিত্র নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রভাব শুধু ইজ়রায়েলেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও পড়তে পারে।
উৎস : আনন্দবাজার পত্রিকা

















