উখিয়ায় আমন ক্ষেতে গুণগুনি রোগের প্রাদুর্ভাব

fec-image

উখিয়ায় চলতি আমন মৌসুমে চাষাবাদে দেখা দিয়েছে ব্যাপক পোকার আক্রমণ। ধান চাষের ফলন আসার আগ মুহূর্তে স্থানীয় ভাষায় কারেন্ট রোগ বা গুনগুনি পোকার মারাত্মক আক্রমণ দেখা দেওয়ায় চাষীরা দিশাহারা হয়ে পড়েছে। এতে করে ফলন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম রোগের প্রাদুর্ভাবের সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পুরো এলাকায় মাইকিংসহ লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

উখিয়া কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমী উপজেলার রত্নাপালং, হলদিয়া পালং, রাজাপালং, জালিয়া পালং ও পালংখালী ইউনিয়নে ৮ হাজার ৬ শত হেক্টর জমিতে আমন চাষের আবাদ হয়েছে। উন্নত জাতের বীজ সংগ্রহ, প্রযুক্তি ব্যবহার ও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষিরা চাষাবাদ করেছেন। এছাড়াও সঠিক পরিচর্যা, পানি নিষ্কাশন ও রোগ বালাই দমনে বিভিন্ন প্রকার কীটনাশক ব্যবহার করেছেন কৃষকরা।

স্থানীয় চাষিরা জানান, বর্তমানে প্রতিটি জমিতে ধানের ফলন আসতে শুরু করেছে। এমনকি কিছু কিছু জমিতে ধান পাকন ধরেছে। কিন্তু হঠাৎ গুনগুনি রোগের আক্রমণ দেখা দেওয়ায় হতাশ ও উৎকন্ঠা বেড়ে গেছে।

অনেক কৃষক জানান, শত শত একর জমিতে গুনগুনি পোকা বা কারেন্ট রোগ ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।এতে ফলন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অজিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে উখিয়া কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ ইউনিয়ন পর্যায়ে রোগবালাই প্রতিরোধ ও রোগ বালাই দমনে নানা কৌশল এবং ওষুধের ব্যবহার বিষয়ে কৃষকদেরকে ধারণা দিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় কোটবাজার স্টেশনের কীটনাশক ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন শত শত কৃষক দোকানে এসে গুনগুনি রোগের ঔষধ ক্রয় করছেন।

খোন্দকার পাড়া, ভালুকিয়াপালং ও হলদিয়া পালংয়ের কয়েকজন কৃষক জানান, গুনগুনি প্রকার আক্রমণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে ধান চাষ আগুনের মত পুড়ে যায়। যা ওষুধ ছিটিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, প্রত্যেক এলাকায় এ রোগের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। আবাহাওয়ার বৈরি প্রভাব ও জলবায়ু পরিবর্তন দেখা দেওয়ায় এর তীব্রতা বেড়ে গেছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে কৃষিবিভাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নিকারুজ্জামান চৌধুরীর সাথে আলাপ-আলোচনা করে পুরো এলাকায় মাইকিংসহ লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছেন।

স্থানীয় কৃষকদের অভিমত হাজার হাজার টাকা বিনিয়োগ করে বা অগ্রিম টাকা দিয়ে বর্গা জমি নিয়ে চাষাবাদ করেছে। কিন্তু গুনগুনি বা কারেন্ট রোগের কারণে চাষাবাদ পুড়ে মরে যাওয়ায় এখন আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্তের সম্মুখীন হওয়ার মুখে পড়েছে কৃষকরা।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: আমন মৌসুমে, কৃষি অফিস, চাষাবাদ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen − 8 =

আরও পড়ুন