ট্যুরিস্ট পুলিশের অভিযান

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে হিজড়াদের উৎপাত বন্ধ

fec-image

দল বেঁধে বাজি ধরে তালি মারা; গান গাওয়া, টাকার জন্য হেনস্তা, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, অশ্রাব্য কথাবার্তা ও মারমুখী আচরণ তৃতীয় লিঙ্গ তথা হিজড়াদের বিশেষ চরিত্র।

ইদানিং কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে এমন দৃশ্য আর চোখে পড়ে না। দৌরাত্ম্য কমেছে হিজড়াদের। ট্যুরিস্ট পুলিশের কঠোরতায় বেড়েছে নিরাপত্তা ও পর্যটকদের স্বস্তি।

স্থানীয়রা বলছে, গত কয়েকদিনের অভিযানে সাগর তীরে হিজড়াদের উৎপাত শূন্যের কোটায়। ধরা পড়ছে কার্ড, লাইসেন্সহীন অবৈধ ফটোগ্রাফার। নেওয়া হচ্ছে আইনগত ব্যবস্থা। কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবনী বিচে ট্যুরিস্ট পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। সক্রিয় রয়েছে তাদের মোবাইল টিম। এতেকরে স্থানীয়রা কিছুটা হলেও হিজড়াচক্রের যন্ত্রণামুক্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, ‌‘হিজড়াদের কারণে পর্যটকরা খুব বিরক্ত। অনেকটা জোর করেই টাকা আদায় করে। বিড়ম্বনা এড়াতে, হয়রানি ঠেকাতে বাধ্য হয়ে টাকা দেয় ট্যুরিস্টরাও, এমন অভিযোগ অনেকদিন থেকেই।’

তিনি বলেন, ‘এই মানুষগুলোকে আইনের মাধ্যমে বা শক্তি প্রয়োগ করেও অনেকসময় নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ভাবলাম, কি করা যায়?’

মো. রেজাউল করিম গত ২৮ এপ্রিল ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নে যোগদান করেন। ৫ মে তৃতীয় লিঙ্গের এই মানুষগুলোর সম্মুখীন হন।

বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশের এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘হিজড়াদের সঙ্গে বসলাম। অভাব, অভিযোগ ও অসহায়ত্ব জানলাম। কিন্তু আমার একার পক্ষে এদের আর্থিক চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। হিজড়াদের দাবি, তাদের কেউ চাকরি দেয় না, আর্থিক সহায়তা করতে চায় না। কিন্তু আমাদের দায়িত্ব, হয়রানি থেকে বিচে ট্যুরিস্টদের রক্ষা করা। শেষ পর্যন্ত তাদের মোটিভেশন দিলাম। সুন্দর করে বোঝালাম।’

তিনি আরও বলেন, তাদের (হিজড়া) বললাম, বিচে আসলে বেড়াতে আসতে হবে। ট্যুরিস্টদের হয়রানি বা টাকা চাইতে আসতে পারবে না। তারা আমার কথা রাখল। বিচ থেকে উঠে গেল। বিচে আর আসবেনা এমন কথা দিল। আজ পর্যন্ত তাদের আমি এভাবে দল বেঁধে বিচে আসতে দেখি নাই বা শুনি নাই। তবে দু’একজন যে আসছে না তা নয়। সফলতা হল, দল বেঁধে আর আসছেনা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘হিজড়ারা বিভিন্ন হোটেলে যায়, রাস্তায় অনেক সময় টাকা উঠায় বলে শুনেছি। রাতে দু’একজন ঝাউবাগান দিয়ে অন্ধকার এলাকা দিয়ে বিচে প্রবেশের চেষ্টা করে। কিন্তু ট্যুরিস্ট পুলিশের কড়া পাহারার কারণে তারা সফল হয় না।’

দুঃখের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেকের সাথেই এটা নিয়ে কথা বলেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউই তেমন কোন স্থায়ী সমাধান দিতে পারেন নাই। জানিনা কতদিন এভাবে তাদের বিচে ট্যুরিস্ট হয়রানি বন্ধ করে রাখতে পারব। এর একটা স্থায়ী সমাধান দরকার।’

উল্লেখ্য, সরকার ২০১৩ সালে হিজড়াদের ‘৩য় লিঙ্গের মানুষ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০১৪ সালে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।

এ প্রেক্ষিতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক ‘পাইলট কর্মসূচি’ নামে হিজড়াদের জন্য নেওয়া কর্মসূচিতে ৬৪ জেলার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যেখানে উপবৃত্তি এবং বৃদ্ধভাতা অন্তর্ভুক্ত।

তাছাড়া ৫০ দিনের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণসহ সরকারিভাবে হিজড়াদের দেওয়া হচ্ছে অনেক সুযোগ সুবিধা।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার, সমুদ্রসৈকত
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 + 17 =

আরও পড়ুন