কিশোরদের টার্গেট করে ‘আনসার আল ইসলাম’

fec-image

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার আল ইসলাম’ ভিন্ন নামে সাংগঠনিক তৎপরতা চালাচ্ছে। সংগঠনটি ‘আস-শাহাদাত’ নাম দিয়ে সদস্য সংগ্রহসহ নানা তৎপরতা চালাচ্ছে জঙ্গি সংগঠনটি। সদস্য হিসেবে তাদের টার্গেট উঠতি বয়সী কিশোররা। সংগঠনটির সক্রিয় তিন সদস্যকে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব।

গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে গতকাল শুক্রবার ভোর পর্যন্ত র‌্যাবের দুটি দল যৌথ অভিযান চালিয়ে কক্সবাজারের চৌফলদণ্ডী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে উগ্রবাদী বই, লিফলেট ও বিস্ফোরক তৈরির দ্রব্য জব্দ করে র‍্যাব।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজার র‌্যাব-১৫-এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম এসব তথ্য জানান।

আটককৃতরা হলেন, জামালপুরের ইসলামপুর এলাকার আবদুল ওহাবের ছেলে মো. জাকারিয়া মন্ডল (১৯), ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার নুরুল আমিনের ছেলে মো. নিয়ামত উল্লাহ (২১) ও ফেনীর সোনাগাজীর ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. ওজায়ের (১৯)।

সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার আরাফাত ইসলাম বলেন, র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৫ এবং র‌্যাব-৭-এর দুটি দল চৌফলদণ্ডী এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে তিনজনকে আটক করা হয়। তারা আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানে উদ্বুদ্ধ হয়ে আল-কায়েদা মতাদর্শের জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার আল ইসলাম’-এ যোগ দেয়।

র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের ফলে আনসার আল ইসলামের কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে পড়লে ‘আস-শাহাদাত’ নাম দিয়ে নতুন সদস্য সংগ্রহসহ দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে গোষ্ঠীটি। এই গ্রুপ পার্শ্ববর্তী একটি দেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছে এবং সদস্যসংখ্যা ৮৫-১০০ জন। এই গ্রুপের উদ্ভাবক হচ্ছে পার্শবর্তী দেশের নাগরিক হাবিবুল্লাহ এবং কথিত আমির সালাহউদ্দিন। এ ছাড়া তারা বাংলাদেশকে এই সংগঠনের একটি শাখা বলে দাবি করে। এ গ্রুপটির বাংলাদেশের আঞ্চলিক শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত আমির ছিলেন র‌্যাবের হাতে এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া ইসমাইল হোসেন।

কমান্ডার আরাফাত ইসলাম আরও বলেন, আনসার আল ইসলামের নাম ব্যবহার না করে ‘আস-শাহাদাত’ গ্রুপের নামে সদস্য সংগ্রহ ও দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। তাদের মূল উদ্দেশ্য, বাংলাদেশে ‘ইসলামি খেলাফত’ প্রতিষ্ঠা করা। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অপব্যাখ্যার মাধ্যমে ভুল বুঝিয়ে সংগঠনের সদস্যদের ও নতুন সদস্য সংগ্রহ করে তাদের বিভিন্ন অপব্যাখা ও মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে দেশের বিচার ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে বিতৃষ্ণা তৈরি করে ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম করার জন্য উগ্রবাদী করে তুলত।

জিজ্ঞাসাবাদে আটক তিনজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাতে এই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ও নেতৃস্থানীয় অনেক সদস্য গ্রেপ্তার হয়। যেহেতু কিছু সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছে, তাই সংগঠনটিকে তারা পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন সদস্য সংগ্রহ করছে। উঠতি বয়সী কিশোরদের অপব্যাখা দিয়ে সহজে ব্রেন ওয়াশের মাধ্যমে ভুলপথে নেওয়া যায় বিধায় কোমলমতি কিশোরদের তারা প্রথমে টার্গেট করত। তাই এই সংগঠনের বেশিরভাগ সদস্যই ১৯-২০ বছর বয়সী তরুণ এবং মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষক।’

 

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন