খাগড়াছড়িতে পৌর কসাইখানার দুর্গন্ধে অতিষ্ট নদী তীরবর্তী বাসিন্দা ও পথচারীরা
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
২০১৩ সালে জেলা শহরের আরামবাগ এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে গঞ্জপাড়া ব্রীজের পাশে আধুনিক মানের কসাইখানা নির্মাণ করে খাগড়াছড়ি পৌরসভা। আর নির্মাণের পরপরই কসাইখানাটি ইজারা দেয়া হয় আবু তালেব নামে এক ব্যক্তির কাছে। গত তিন বছর ধরে তিনিই ইজারা নিয়ে পরিচালনা করে আসছেন এই কসাইখানাটি। তবে অসচেতনতা, অবহেলা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে বর্তমানে কসাইখানাটি স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খাগড়াছড়ি জেলা শহরের গঞ্জপাড়া ব্রীজ সংলগ্ন নদীর তীরে স্থাপিত পৌর কসাইখানার মলমূত্র, রক্ত ও ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে নদী তীরবর্তী বাসিন্দা ও পথচারীরা। ঠিক অপর দিকে নিচের বাজারের পাশাপাশি হিন্দু র্ধমালম্বীদের উপসনালয়ে লক্ষী নারায়ন মন্দিরে আসা র্তীথ যাত্রীদেরও অনেক সময় এই দুর্গন্ধে শিকার হতে হয়। যখন তীব্র রোদ ওঠে তখন সাথে সাথে এই দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরে সবখানে এতে করে একদিকে যেমন দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, ঠিক তেমনি অন্যদিকে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও।
আধুনিক কসাইখানা হওয়া সত্ত্বেও সেফটি ট্যাংকের সাথে সংযোগ বিকল হওয়ায় গরুর মলমূত্র, রক্ত ও ময়লা আবর্জনা খোলামেলা পড়ে থাকে। এতে সৃষ্ট দুর্গন্ধে নদীর তীরে বসবাসকারী ও পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোঁহাতে হচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে শিশুদের বেড়ে ওঠায়। সেই সাথে বাড়ছে মশা-মাছির উপদ্রবও।
এছাড়া কসাইখানাটির পাশেই সপ্তাহে দু’দিন বসে গরু-ছাগল ও কাঁচামালের হাট। শহরের যানজট নিরসনে পৌর কর্তৃপক্ষ নদী তীরবর্তী স্থানে সাপ্তাহিক হাটবাজার স্থানান্তর করলেও অব্যবস্থাপনার ফলে পার্শ্ববর্তী পৌর কসাইখানার বর্জ্যের দুর্গন্ধে স্বস্তি নেই হাটবাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদেরও।
স্থানীয় দুলাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, এই দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের, তবে কর্তৃপক্ষের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই এতে। নজরদারীর অভাবেই এমনটা হয়েছে, পৌর প্রশাসন আন্তরিক হলেই এ সমস্যা অচিরেই সমাধানযোগ্য। পৌর কসাইখানার ইজারাদার আবু তালেব জানান, এ সমস্যা সমাধানে সেফটিক ট্যাংকের সংস্কার প্রয়োজন। এ ব্যাপারে পৌর প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
খাগড়াছড়ি পৌরসভার কনজারভেন্সী শাখার ভারপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর মো. মাসুদ রানা জানান, বিষয়টি পৌর প্রশাসন অবগত আছে। শীঘ্রই এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হবে। এ দুর্ভোগ নিরসনে খাগড়াছড়ি পৌর মেয়র রফিকুল আলম সহসাই পদক্ষেপ নেবেন এমনটাই প্রত্যাশা করেন এলাকাবাসী, পথচারী ও হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের।


















