গর্জনিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়িসহ সীমান্তের সব বাজারেই আলুর দাম ৬০ টাকা

fec-image

কক্সবাজারের তরি-তরকারীর ভাণ্ডার বলা হয় রামুর গর্জনিয়া বাজার। এ বাজারটি বৃটিশ আমল থেকেই সর্বত্র পরিচিতি লাভ করে তরি-তরকারী উৎপাদনের জন্যে। এছাড়াও রয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর বাজার বাইশারী বাজারও। এ গুলোতেও সেই গর্জনিয়া বাজারের আদলে সারাবছর তরি-তরকারী সস্তা থাকে। কেননা এ বাজার গুলো ঘিরে রয়েছে বাঁকখালী নদীসহ ২০টির অধিক খাল ও ছড়া। এ সবের ঊভয়কূলের চরে হাজার হাজার একর সবজি চাষ। এই জন্যে এ এলাকায় তরিতরকারীর মূল্য থাকে নাগালে। আর তরতাজা।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলেন, বছরে এক দু’বার তরকারীর দাম উঠা-নামা করলেও আলু, বেগুন, কচু, মূলা ও শিম সহ কমন সবজির বাজারে এ সবের দাম বরাবরই থাকে নাগালের ভেতরে। তারা যুগযুগ ধরে এ অবস্থা দেখে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি এ চির সত্যটি পাল্টে যায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজিতে।

রামু বাজার ও চৌমূহনী কেন্দ্রিক কিছু আড়তদার ও পাইকারী ব্যবসায়ী এবং চট্টগ্রাম ও চকরিয়া থেকে মালামাল আনেন এমন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মিলে এ কারসাজির যাতাকল বসালেন সম্প্রতি। তারা দেশের নানা প্রান্তের খবর নিয়ে মূর্হুতেই উলট-পালট করে দিচ্ছেন আলু ও পেঁয়াজের দাম। দাম বাড়ান দেড় থেকে দু’গুণ। এভাবে তাদের পকেট ভারী হলেও দিশেহারা হয়ে পড়েন ভোক্তারা।

অপরদিকে আরেক দল খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, বর্তমানে এ বাজার সমূহে দেশি আলুর দাম ৬০ টাকা , ললিতা আলু ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১শত টাকা থেকে ১শত ১০ টাকায়। তারা বাধ্য হয়ে ২/১ টাকা লাভেই বিক্রি করেন এসব কাঁচা তরকারী।

সচেতন মহল বলেন, এছাড়া অন্য তরি-তরকারীর দামও আকাশচুম্বী। যেন আগুন লেগেছে সবজি বাজারে। ফলে দূর্নাম রটছে সরকারের ও এলাকার। এতে পিষ্ট হচ্ছেন গরীব ও সাধারণ ভোক্তারা। অথচ সরকারের নির্দেশনা রয়েছে দেশের খুচরা বাজারে দেশের সর্বত্র ৩০ টাকা দরে প্রতি কেজি আলু বিক্রি করতে হবে। অন্যতায় আইনী ব্যবস্থা নেবেন সরকার। কিন্তু তারা এ বিষয়ে তদারকী করতে কোন কর্তৃপক্ষকেই হাট-বাজারে দেখেননি বলে জানান ।

রামুর গর্জনিয়ার বাজারের ভোক্তা সমাজ সেবক শাহ আলম, আবদুল্লাহ পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ি সদর বাজারের ভোক্তা রফিক আহমদ ও ইমাম হোছাইন বলেন, অবাক লাগছে তাদের। সরকার বলছে ৩০ টাকা দরে আলু বিক্রি করতে আর তাদের বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। প্রায় দ্বিগুণ দরে আলু বিক্রি মানে মগের মূল্লুক।

এ বিষয়ে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের রামুর গর্জনিয়া বাজারের আলুর মূল্য নিয়ে জানতে চাইলে কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু মো ঈসমাঈল নোমান বলেন, তিনি এখনও মূল্য তালিকা বা কোন নির্দেশনা পাননি এ বিষয়ে। আর বিষয়টি অতি দ্রুত তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানাবেন। যেন ভোক্তারা মূল্য হয়রানী থেকে পরিত্রাণ পান।

অপর দিকে বান্দরবানের সীমান্তবর্তী পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন কচি বলেন, তিনি আলু মূল্য নিয়ে এখনও কোন নির্দেশনা পাননি। নির্দেশনা পেলে ববস্থা নেবেন।

উল্লেখ্য, দেশের নানা প্রান্তে আলুর মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তর গত সপ্তাহে জেলা প্রশাসকদেরকে চিঠি দেন যেন খুচরা বাজারে ৩০ টাকা দরে আলু বিক্রি হয়। পাইকারী বাজারে ২৫ টাকা আর কোল্ডস্টোরেজ পর্যায়ে ২৩ টাকা। অথচ ব্যবসায়ীরা তা মানছেন না মোটেও। আর এ বিষয়ে কোন তদারকিও নেই এসব বাজারে। এ কারণে ভোক্তারা অধিকার বঞ্চিত।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ten − 1 =

আরও পড়ুন