গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের আবাসিক ফ্ল্যাটে হোটেল ব্যবসা, রাজস্ব ফাঁকি

fec-image

পর্যটন শহর কক্সবাজারে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের আবাসিক ফ্ল্যাটে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চলছে হোটেল ব্যবসা। সেখানে মন্ত্রণালয় ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের ফ্ল্যাটও রয়েছে। সেগুলো থেকে তারা আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকে।

অভিযোগ রয়েছে, ভাড়া দেওয়া কয়েকটি ফ্ল্যাটে অপরাধকর্ম চলে। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এসব পরিচালনা করেছে একটি চক্র। যাতে হাত রয়েছে বড় কর্তাদের।

সুত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার হোটেল মোটেল জোনে ১০টি আবাসিক ভবন নির্মাণ করেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। ২০১৪ সালে এ কাজ শুরু হয়। পূর্ণতা পায় ২০১৯ সালে। ১০টি ভবনে মোট ৪৬৯টি ফ্ল্যাট রয়েছে। যা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বরাদ্দ নেয়। বরাদ্দ প্রাপ্তদের মধ্যে কয়েকজন জনপ্রতিনিধিও রয়েছে।

এখানে অভিযোগ হলো, ফ্ল্যাট বরাদ্দের ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ৬টি ভবনকে বানানো হয়েছে আবাসিক হোটেল। এসব নিয়ন্ত্রণ করছে অসাধু একটি চক্র।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কয়েকজন বড় কর্তা এসব অনিয়মের নিয়ন্ত্রক। তাদের আশকারায় ফ্ল্যাটের উপ-ভাড়াটিয়ারা সরকারি ভবনে রামরাজত্ব করেছে।

নীতিমালার ১২ নং কলামে লেখা রয়েছে, ফ্ল্যাটে নিজ পরিবার, নির্ভশীল বৃদ্ধ মাতা পিতা এবং ভাই বোন বসবাস করতে পারবেন। আবাসিক উদ্দেশ্য ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ এবং সরেজমিনে দেখা গেল, দশটির মধ্যে ছয়টি ভবন আবাসিক হোটেল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সেগুলো হলো, ৪ নং ভবন আল ফাতাহ রিসোর্ট, ৫ নং ভবন হোটেল একুশের নীড়, ৬ নং ভবন ওয়াটার প্যারাডাইস রিসোর্ট, ৭ নং ভবন ওশান ফ্রেন্ড, ৯ নং ভবন সমুদ্র বাড়ি ও ১০ নং ভবন হোটেল দ্য গ্র্যান্ড স্যান্ডি।
এসব ভবন মোটা অংকে ভাড়া দেয়া হয়েছে বিভিন্ন জনকে। যেটি গণপূর্ত নীতিমালার সুস্পষ্ট লংঘন।

একটি আবাসিক হোটেলের জন্য ১৪ প্রকার কাগজপত্র প্রয়োজন। যা সরকারি বিভিন্ন দপ্তর থেকে সংগ্রহ করে নিতে হয়।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত ফ্ল্যাটসমূহে সব ডকুমেন্ট ঠিকঠাক আছে কিনা না? কোন ক্ষমতা বলে আবাসিক ভবনকে হোটেল বানানো হয়েছে?

সরেজমিন অনুসন্ধান করে জানা গেল, ৬ নং ভবন ওয়াটার প্যারাডাইস রিসোর্টের ভাড়াটিয়া মোঃ সরওয়ার। তিনি কলাতলী সুগন্ধা পয়েন্টের সড়কের পাশের ভবনের দেওয়াল ভেঙ্গে বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টার ভাড়া দিয়েছেন।

সংস্কার কিংবা উপভাড়া তো দূরের কথা, বিধি মতে তিনি একটি ইটও সরাতে পারেন না। কোন ক্ষমতাবলে পরিবহনের কাউন্টার ভাড়া দিলেন?

জানা গেছে, কক্সবাজার কলাতলী এলাকায় ‘কক্সবাজার ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে তৈরি করে ৪৬৯টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। যার প্রতিটি ফ্ল্যাটের দাম ৩৪ থেকে ৪৫ লাখ টাকা।

এ প্রসঙ্গে রবিবার (১৭ জুলাই) বেলা পৌনে ১ টায় মুঠোফোনে জানতে চাইলে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. দেলওয়ার হায়দার বলেন, আমাদের ফ্ল্যাটগুলো কোনভাবেই হোটেল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। সুনির্দিষ্ট তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

8 − three =

আরও পড়ুন