ঘুমধুমে ছাত্রের হত্যা নাকি আত্মহত্যা!

fec-image

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমে ফরিদ আলম নামে এক ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮আগষ্ট) ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু কোলালপাড়া এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ওড়না  প্যাঁচানো অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ফরিদ আলম সদ্য ফল প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। সে ঘোনারপাড়া এলাকার আবদুল মোনাফের ছেলে।

মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে স্থানীয় ঘুমধুম ফাড়ির পুলিশ ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নাইক্ষ্যংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন। নিহত যুবক আত্মহত্যা করেছে নাকি পরিকল্পিতভাবে হত্যার শিকার হয়েছে এমন সন্দেহ দূর করতে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল।

অবশ্য নিহতের পরিবারের লোকজনের দাবি ফরিদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ফরিদের পিতা জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে কেউ একজন ফোন করে ঘর থেকে ডেকে নেয়। পরে রাত ১০টার দিকে ফরিজা বেগমের বাড়িতে ছেলের আত্মহত্যা হয়েছে খবর পেয়ে ছুটে আসেন তিনি।

ঘটনাস্থলে লাশের অবস্থা দেখে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা তার। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনার বিষয়টি সন্দেহজনক বলে অবহিত করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় বিনয়ী এবং প্রতিবাদী স্বভাবের ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিল ফরিদ আলম। ছাত্রলীগের রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কাজেও সম্পৃক্ত ছিল।

নিহতের ভাই শাহা আলম জানান, তাদের পিতা আবদুল মোনাফের সাথে কাদের মেম্বারের উত্তরাধিকার সূত্রে জায়গাজমির বিরোধ ছিল। আর ফরিদ প্রায় সময় কাদের মেম্বারের মেয়ে ফরিজার বাড়িতে ইন্টারনেট (ওয়াইফাই) ব্যবহার করার জন্য যেতো। এদিকে ফরিদের গলায় ওড়না প্যাঁচানো থাকলেও লাশ খাটের উপর পড়ে ছিল। এই কারণে ঘটনাটি হত্যা হিসেবে দেখছেন তিনি।

ফরিদের বাল্য বন্ধু আবদুল্লাহ আল ফাইসাল জানান, ফরিদের সাথে তেমন কোন নারীর সম্পর্ক ছিল না। সবসময় টেনশন মুক্ত থাকতো সে। ঘটনার দিন বিকালেও তার সাথে হাসিখুশি কথা বলেছি। কিন্তু এমন নির্মন ঘটনা কোনভাবে মেনে নেওয়া যায় না।

এই ব্যাপারে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, ঘটনাস্থলে যে অবস্থায় লাশ পড়ে ছিল তাতে ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। পুলিশের তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে ফরিদের লাশ উদ্ধারের পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে এলাকাবাসী।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × five =

আরও পড়ুন