চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে গোপন চুক্তি প্রকাশ ও স্থগিতের দাবিতে সরকারকে ১০০ শিক্ষার্থীর চিঠি

fec-image

চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়ারচর ও পানগাঁও নৌ-টার্মিনাল সংক্রান্ত বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পাদিত নন-ডিসক্লোজার (গোপন) কনসেশন চুক্তি অবিলম্বে প্রকাশ, স্বাধীন পর্যালোচনা কমিটি গঠন এবং চুক্তির পরবর্তী সকল কার্যক্রম স্থগিতের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে একটি লিখিত চিঠি প্রেরণ করেছেন ঢাবি, জাবি, রাবি, জবিসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

চিঠিটি ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ডাকযোগে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়সহ সরকারের ৬টি বিভাগে প্রেরণ করা হয়।

চিঠিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, গত ১৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস এর সঙ্গে লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য এবং একই দিনে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক Medlog SA-এর সঙ্গে পানগাঁও নৌ-টার্মিনাল পরিচালনার জন্য অস্বাভাবিক দ্রুততায় গোপন কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর করে। জনগণের ঘোর আপত্তি থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়া সত্ত্বেও গোপন কনসেশন চুক্তি সম্পাদন করা ও এসব চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি, যা সংবিধানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থ রক্ষার মৌলিক নীতির পরিপন্থী।

চিঠিতে শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এসব চুক্তিতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কেবল টার্মিনাল অপারেটর নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ৪৮ বছেরের কনসেশনিয়ার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া চুক্তি সম্পাদন, দেশীয় প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া, ১৬৭ ডলারের জায়গায় মাত্র ২১ ডলার ধার্য করায় প্রতি কন্টেইনারে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ও জনপরামর্শের ঘাটতি এবং মাত্র ১১–১৩ দিনের মধ্যে অস্বাভাবিক দ্রুততায় চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়টি গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর বিদেশি কনসেশনিয়ারের নিয়ন্ত্রণে গেলে অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়া ফিলিস্তিনে গণহত্যার অংশীদার ইজরাইলে অস্ত্র পরিবহণে অভিযুক্ত আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গোপন কনসেশন চুক্তি বাংলাদেশের সংবিধান, পররাষ্ট্রনীতি ও নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এই প্রেক্ষাপটে উদ্বিগ্ন ১০০ শিক্ষার্থী ৩ দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো- উক্ত নন-ডিসক্লোজার কনসেশন চুক্তিসমূহের সম্পূর্ণ ও অবিকৃত বিষয়বস্তু বিজ্ঞপ্তি জারীর মাধ্যমে জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে, চুক্তিসমূহের আইনগত বৈধতা, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব গভীরভাবে পর্যালোচনার লক্ষ্যে দেশপ্রেমিক, অভিজ্ঞ ও স্বার্থসংঘাতমুক্ত বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি গঠন করতে হবে; এবং উক্ত পর্যালোচনা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ও চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট চুক্তির আওতায় গৃহীত বা গৃহীতব্য চুক্তি পরবর্তী সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হবে।

শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেন, সরকার দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: চট্টগ্রাম বন্দর
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন