চট্টগ্রাম বিভাগে করোনায় শীর্ষে চকরিয়া : নিত্যদিন বাড়ছে করোনা রোগী

fec-image

দিন দিন কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ আক্রান্ত বেড়ে চলেছে। দেশের প্রতিটি জেলায় এ করোনা আক্রান্ত রোগী সংখ্য দীর্ঘ সারিতে রূপ নিয়েছে। গেল এক সপ্তাহের ব্যবধানে করোনা আক্রান্তের এখন হটস্পর্টে পরিণত হয় কক্সবাজারের চকরিয়া। বর্তমানে আক্রান্তের দিক দিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে করোনায় শীর্ষে রয়েছে চকরিয়া উপজেলা। লকডাউন পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় নিত্যদিন গাণিতিকহারে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।

করোনা বিস্তার রোধে মাঠ পর্যায়ে দিব্যি চলছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতে অভিযানও। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সকাল ১০টা এবং সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে অপ্রয়োজনীয় জমায়েত ও আড্ডা ছত্রভঙ্গ করার মতো কাজ করেও ঠেকানো যাচ্ছে না করোনা আক্রান্ত প্রতিরোধ। এতে গ্রামীণ জনপদ এলাকার ও সাধারণ মানুষদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ১৬ মে পর্যন্ত চকরিয়ায় দুই শিশুসহ ৬০ করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। আক্রান্তের মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান, সহকারী কমিশনার (ভুমি)সহ হাসপাতালের নার্স-স্টাফও রয়েছেন। তৎমধ্যে হোম আইসোলেশন ও আইসোলেশন থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাসা-বাড়িতে ফিরেছে মাত্র ৯জন। যেভাবে দিন দিন বাড়ছে আক্রান্তের হার তার তুলনায় সুস্থতার হার খুব কম। তবে আক্রান্ত সহকারী কমিশনার (ভুমি) তারভীর হোসের বর্তমানে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ ফজলুল করিম সাঈদী সরকারি বাসভবনে আইসোলেটেড রয়েছেন। আক্রান্তের মধ্যে বেশিরভাগ রোগী তাদের সম্মতিতে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্থানীয় লোকজন জানায়, চকরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার মুল কারণ হচ্ছে ঠিক মতো লকডাউন কার্যকর না হওয়া। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা অনেকেই হোম কোয়ারান্টাইন মানছেনা। তারা যত্রতত্র নিজের ইচ্ছে মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। যার কারণে করোনা আক্রান্তের সংখ্যার হারও মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে চলছে।

তারা আরও জানান, চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ জনের করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করে। ক্ষেত্র বিশেষে তা বেড়েও যায়। কিন্তু যাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয় তাদের নমুনা দেয়ার পর রেজাল্ট না আসা পর্যন্ত বাড়িতে থাকার নিয়ম থাকলেও তারা তা মানছেনা। তারা এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। যখনই তাদের রেজাল্ট পজিটিভ আসে তখনই তারা বাড়িতে বা হাসপাতালে আইসোলেশনে যাচ্ছে। এর ফলে তাদের সংস্পর্শে যারা ছিলো তারাও হোমকোয়ারান্টাইন মানছেনা। এরাও অবাধে চলাফেরাসহ ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে আক্রান্তের হার বাড়ছে।

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প:প কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহবাজ জানান, জেলার মধ্যে করোনা আক্রান্তের দিক দিয়ে চকরিয়ায় প্রথমে রয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশ বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের সাথে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি। যখন যে রকম ওষুধ দেয়া দরকার তা তাদের দিচ্ছি। এই পর্যন্ত ৯জন সুস্থ হয়েছে। আরো বেশ কিছু আক্রান্ত রোগী সুস্থতার পথে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে আক্রান্তের তথ্য প্রশাসনকে জানানো। তারাই মুলত লকডাউনের বিষয়টি কার্যকর করবে। আমরা এতে সহয়তা করবো। এসময় তিনি সবাইকে মাস্ক, বার বার হাত ধোয়া এবং অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেন।

লকডাউনের বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, আসলে প্রথম থেকেই আমি আর আমার এসিল্যান্ড খুব চেষ্টা করেছি লকডাউন কার্যকর করতে। প্রথমে যখন আক্রান্তের সংখ্যা কম ছিলো তখন আমরা প্রতিটি বাড়ি লকডাউন কার্যকর করেছি। কিন্তু দিন দিন রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এই লকডাউন কার্যকর করতে গিয়ে আমার এসিল্যান্ড করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তিনি আরও বলেন, এসিল্যান্ড আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে মুলত আমি একা হয়ে গেছি। আমি সারাদিন কাজ করে যাচ্ছি মানুষকে ঘরে ফেরাতে। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করার পরও তারা বুঝছেনা। আমি আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউনের বিষয়ে পুলিশ, স্থানীয় মেয়র, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর এবং মেম্বারদের বলেছি। প্রশাসনের পাশাপাশি তাদের আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউনের বিষয়ে কাজ করতে নিদের্শ দিয়েছি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ten + sixteen =

আরও পড়ুন