চাঁদা না দেওয়ায় দেড় বছর ধরে বন্ধ কাউখালী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের কাজ!

fec-image

কারিগরি শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে এবং তৃণমূল পর্যায়ে এ শিক্ষা ব্যবস্থার সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে সরকার দেশের বিভিন্ন উপজেলায় মোট ১০০টি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের নির্মাণের কাজ হাতে নেয় ২০১৭ সালে। যার মধ্যে ৯০টির কার্যাদেশ দিয়ে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে ২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় ৮৯টি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের নির্মাণ শেষ পর্যায়ে হলেও কাজ শুরু দুই মাসের মাথায় বন্ধ হয়ে যায় রাঙ্গামাটির কাউখালী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের নির্মাণের কাজ। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজের তদারকি কর্মমর্তা থেকে শুরু করে প্রজেক্ট ডিরেক্টর পর্যন্ত কারো কথাই শুনছেনা বলে জানিয়েছেন খোদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অজিত রায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ১০০টি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের নির্মাণের জন্য বিগত ২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ই-টেন্ডার আহ্বান করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সে অনুসারে ৯০ উপজেলায় ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। একই নিয়মে ১৫,৫০,৮৯,৩২০.৯৪ কার্যাদেশ প্রাপ্ত হন চট্টগ্রামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাজির হোসেন এন্ড নাহিন এন্টারপ্রাইজ। কাজ বুঝিয়ে দেয়ার তারিখ ছিলো ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় ৮৯ প্রতিষ্ঠানের ৮০% কাজ ইতিমধ্যে শেষ হলেও ১২% কাজও শেষ করতে পারেননি কাউখালী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের কার্যাদেশ প্রাপ্ত চট্টগ্রামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

শুরুর মাত্র দু’মাসের মাথায় কাজ বন্ধ হয়ে যায় নির্মাণ কাজ। এরই মধ্যে ঐ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী জেবল হোসেন রয়েল ৩ কোটি টাকা উত্তোলন করে লাপাত্তা হয়ে যান। এছাড়াও কাউখালী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইট, বালি, কংকর, পাথর রড ও সিমেন্ট সাপ্লাই দিয়েছেন সেসব প্রতিষ্ঠানও ১ কোটি টাকার উপরে পাওনা রয়েছে। এমন অভিযোগও করেছেন ঐ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে মালামাল সরবরাহকারী ব্যক্তিরা।

গত দেড় বছর কাজ বন্ধ থাকায় নির্মানাধীন ভবনের চতুর্পার্শ্বের মাটি সরে গিয়ে হুমকির মুখে পড়েছে পুরো প্রকল্প। লক্ষ লক্ষ টাকার রড খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। দেড় বছরে পড়ে থাকা এসব রড জং ধরে একরকম ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এ সব বিষয়ে কথা বলতে ঐ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকার জেবল হোসেন রয়েলের ০১৭১৪-১১৫১১৭, ০১৭৫৭-০৯৮৮৮৬ দু’টি নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে কথা হয় শিক্ষা অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিব ও প্রকল্প পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা অজিত রায়ের সাথে। তিনি জানান, ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখেছে প্রায় এক বছরেরও বেশী সময়। কি কারণে কাজ বন্ধ রেখেছেন জানা সম্ভব হচ্ছেনা। এ বিষয়ে তাকে আমাদের বিভিন্ন দপ্তর থেকে বার বার ফোন দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলে কারো ফোনই রিসিভ করছেনা ঠিকাদার।

তিনি জানান, নির্মাণাধীন ৯০ টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের সাথে সম্পৃক্ত থাকা নির্বাহী প্রকৌশলীদের নিয়ে ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই ঢাকায় সভায় হয়। ঐ বৈঠকে কাজে গড়িমসি করা ঠিকাদারদের বিষয়ে চুড়ান্ত কথা হয়।

তিনি জানান, এ ঠিকাদারের জামানত বাজেয়াপ্ত করে দ্রুত তার বিরুদ্ধে অফিসিয়ালি ব্যবস্থা নিতে রাঙ্গামাটির নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া রিটেন্ডারের মাধ্য নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করার কথাও জানালেন তিনি।

শিক্ষা অধিদপ্তর রাঙ্গামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফুর রহমান মুরাদ জানান, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে একাধিকবার তাগাদাপত্র দেয়া হয়েছে। এমনকি জামানত বাজেয়াপ্ত করার নোটিশও প্রদান করা হয়েছে। এর পরও ঐ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজের কোন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছেনা। বার বার বিভিন্ন বাহানা দিয়ে কাজ বন্ধ রাখলেও সংশ্লিষ্ট অফিসারের কারো ফোন রিসিভ করেননা এ ঠিকাদার। যার দরুণ উক্ত ঠিকাদারকে ব্ল্যাক লিষ্টে দিয়ে চুক্তি বাতিল করা ছাড়া কোন উপায় দেখা যাচ্ছেনা।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাজির হোসেন এন্ড নাহিন এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন এ প্রতিবেদককে জানান, পার্বত্য অঞ্চলে কাজ করা অত্যান্ত দুঃসাধ্য ব্যাপার। তিনি জানান, এখানে কাজ করতে হলে ৩টি গ্রুপের সাথে সমঝোতার পর কাজে হাত দিতে হয়। অর্থাৎ ৩ গ্রুপকে চাঁদার প্রথম কিস্তির টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। পরবর্তী কিস্তি দিতে দিরে হওয়ায় কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও অফিসিয়াল বিভিন্ন সমস্যার কারণে আমাদের কাজ কিছুদিন বন্ধ ছিলো। এসব সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই আমারা পূণরায় কাজ শুরু করবো।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × 2 =

আরও পড়ুন