ইরানে পা দিলে কেউ জীবিত ফিরবে না : ইরানের সেনাপ্রধান


যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার মেজর জেনারেল আমির হাতামি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো স্থল অভিযান চালানো হলে আক্রমণকারীদের কেউই জীবিত ফিরতে পারবে না।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) একটি কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার থেকে অনলাইন ভাষণে ইরানের স্থল, বিমান প্রতিরক্ষা, বিমান ও নৌবাহিনীর কমান্ডারদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন জেনারেল হাতামি। তিনি বলেন, ইরানি সেনাবাহিনী যেকোনো ধরনের আক্রমণ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত—হোক তা প্রতিরক্ষামূলক কিংবা আক্রমণাত্মক।
হাতামি কমান্ডারদেরকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে শত্রুপক্ষের গতিবিধি ও কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করতে, প্রতি মুহূর্তে তা বিশ্লেষণ করতে এবং উপযুক্ত সময়ে শত্রু আক্রমণের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, শত্রুপক্ষের স্থল আক্রমণের ক্ষেত্রে “একজনও যেন বেঁচে না থাকে। যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানিরা নিরাপত্তাহীনতায় থাকবে, ততক্ষণ কোনো এলাকা যেন অরক্ষিত না থাকে । চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সকল প্রচেষ্টা অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে।
মেজর জেনারেল হাতামি ইরানের তথাকথিত যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠন সংক্রান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের বেপরোয়া মন্তব্যের আরও সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এই মন্তব্যগুলো ইরানের নাম ও অস্তিত্ব মুছে ফেলার মার্কিন-ইসরায়েলি প্রতিপক্ষদের আসল উদ্দেশ্যকেই নিশ্চিত করে।
তিনি আরও বলেন যে, জনগণের দৃঢ় সংকল্প এবং এই বৈরী পরিকল্পনাগুলো সম্পর্কে সচেতনতার পরিপ্রেক্ষিতে, চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত “সবকিছু ইরানের জন্য” এই মূলনীতির অধীনে এবং সেনাবাহিনী পূর্ণ শক্তিতে আগ্রাসনকারীদের মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনেই এবং বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কমান্ডার ও বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থান এবং আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে প্রতিশোধমূলক অভিযান চালিয়েছে।
উৎস : Tasnim News

















