জিপ-বাস চালকদের উপর সিএনজি-মালিক শ্রমিকের দফায় দফায় হামলা : আহত ১০


আরাকান সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, রেজি: নং ৭২৬ এর অন্তর্ভুক্ত চকরিয়া-লামা-আলীকদম সড়কে জীপ-বাস ও হাইয়েস গাড়ির অন্তত ১০ জন চালককে (শ্রমিক) দফায় দফায় হামলা চালিয়ে বেদড়ক মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই সড়কের সিএনজির মালিক-শ্রমিকের বিরুদ্ধে। এনিয়ে জীপ-বাস ও হাইয়েস মালিক শ্রমিকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
হামলায় আহতরা জানান, যাত্রীবাহী গাড়ি ব্যারিকেড় দিয়ে অতর্কিতভাবে লামার সিএনজি-মাহিন্দ্রার সভাপতি নবী হোসেন, সেক্রেটারী ওয়াহাব মিয়া, খালেক সর্দারের ছেলে সৌরভ ড্রাইভার, আলী মিয়ার ছেলে মুবিন, মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে মিলন ও সিএনজির সাবেক সভাপতি ফারুকের নেতৃত্বে গাড়ি নিয়ে যাওয়া-আসার পথে চালকদের ধরে ধরে গাড়ি থেকে নামিয়ে এ হামলা চালিয়েছে বলে দাবী করেছেন।
শ্রমিকদের ওপর হামলার এ ঘটনা নিয়ে যে কোন মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সম্ভবনা রয়েছে বলেও দাবী করেছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
শুক্রবার বিকেলে ও সন্ধ্যার পরে লামা-আলীকদম সড়কের লাইনঝিরি ও বেলালের দোকান নামক এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত শ্রমিকরা হলেন, হাইয়েস গাড়ি চালক ফরিদ (৫০), জীপগাড়ি চালক এনামূল হক (৩০), জীপগাড়ি চালক জাহাঙ্গীর (৩২), জীপগাড়ি চালক নুরুল আবচার (৩৭), জীপগাড়ি চালক রাসেল (২৮), জীপগাড়ি চালক খোকন (৩৫), জীপগাড়ি চালক জয়নাল আবেদীন (৫৮) ও জীপগাড়ি চালক আবদুর রশিদ (২৬)।
অভিযোগে জানা গেছে, চকরিয়া-লামা-আলীকদম সড়কে জীপগাড়ি, হাইয়েস ও বাসগাড়ির (চালক) শ্রমিকদের কোন ধরণের ইস্যু ছাড়া অতর্কিতভাবে শুক্রবার বিকেলে ও সন্ধ্যার পরে লামা লাইনঝিরি এবং বেলালের দোকানের সমানে বেশকিছু সিএনজি চালক ও মালিকের নেতৃত্বে ১০-১২ জন একদল সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আহত করা হয়।
এদিকে শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত সড়কে অন্তত ২০ জন শ্রমিককে বেদড়ক মারধর করে আহত করা হয়েছে। এছাড়াও লামা বাসটার্মিনালে শটবড়ি জীপগাড়ির কাউন্টারে তালা লাগিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলেও দাবী করেছেন চকরিয়া-লামা-আলীকদম রোড কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিক উদ্দিন। শ্রমিকদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে আহত করার ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লামা-আলীকদম সড়কে জীপগাড়ির বেশকিছু শ্রমিকদের মারধর করে আহত করার বিষয়টি আমাকে শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মুঠোফোনে অবগত করেছেন। এ বিষয়ে উভয়পক্ষ নিয়ে দ্রুত প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

















