দেশ বিনির্মাণে জুম্ম জনগণকে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে : বান্দরবানে উ উইন মং জলি

fec-image

বাংলাদেশ বিনির্মাণে জুম্ম জনগণকে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক উ উইন মং জলি। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে বান্দরবানে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশ মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) তিনি এ দাবি জানান।

সমাবেশে উ উইন মং জলি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমরা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সংবিধানে সম্পৃক্ত হতে চাই। মাথা উঁচু করে পৃথিবীতে বাচঁতে চাই। তাদের কাছে আমাদের প্রশ্ন- যারা সংবিধানের সম্পৃক্ত হতে চাই বাংলাদেশে সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে চাই তারাই কী বিচ্ছিন্নতাবাদী, নাকি যারা সংবিধানে সম্পৃক্ত হতে দিতে চাই না তারা বিচ্ছিন্নতাবাদী? যারা নানা অপবাদ দিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে ঠেলে দিতে চায় তারাই বিচ্ছিন্নতাবাদী। এসব অপবাদ থেকে বের হয়ে বাংলাদেশ বিনির্মাণে জুম্ম জনগণকে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তা না হলে জুম্ম জনগণের অতীতে ঐতিহ্য আছে সেই ঐতিহ্য জনসংহতি ভুলে নি। আমরা অস্ত্র জমা দিয়েছি। প্রশিক্ষণ জমা দিইনি। বিচ্ছিন্নতাবাদী আখ্যা দিয়ে অতীতে যেতে বাধ্য করবেন না। অতীতের পথে যাওয়া কারো জন্য শুভকর হবে না।

মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় রাজার মাঠ প্রাঙ্গণের এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ‘দীর্ঘ দুই যুগের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সমাপ্তি টানতে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানে বিএনপি সরকারের সময় ১৬ বার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ৭ বার বৈঠক হয়। এসব আলাপ-আলোচনার ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে জাতীয় সংসদের তৎকালীন চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং জেএসএস সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্রীয় বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তবে এই চুক্তি সম্পন্ন করার ২৮ বছর পার হলেও  এই চুক্তি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয় নি। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি আজ প্রতারণার দলিলে পরিণত হয়েছে। চুক্তির মূল ধারাগুলো বাস্তবায়িত না হওয়ায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়েছে।’

সমাবেশে জেএসএস বান্দরবান জেলা কমিটির সভাপতি সুমন মারমার সভাপতিত্বে জেএসএস নেতা থুই মং প্রু মারমা, হিল উইমেন ফেডারেশনের জেলা সভানেত্রী উলিসিং মারমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ জেলা কমিটির সদস্য সিং ওয়াই মং মারমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান নেটওয়ার্কের আইন সম্পাদক মংনু মারমা হেডম্যান, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য মেঞোচিং মারমাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: পার্বত্য শান্তিচুক্তি, বান্দরবান
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন