নানা উদ্যোগেও কাটছে না নাইক্ষ্যংছড়ির পানি সংকট

fec-image

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সবকটি ইউনিয়নে পানি সংকট তীব্র হয়ে উঠছে। খাবার পানির জন্য হাহাকার করছে মানুষ। উপজেলার বহু নলকূপ অচল হয়ে পড়েছে। গরমে পানির ভূগর্ভস্থ স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক পুকুর, লেক ও ছড়া থেকে পানি প্রবাহিত হচ্ছে না। মানুষের এমন দূর্ভোগের জন্য জনস্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মিত তদারকির অভাব, অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, উপজেলার নাইক্ষ্যংছড়ি সদর, বাইশারী, দৌছড়ি, ঘুমধুম ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বহু গ্রামে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পূর্বে স্থাপন করা রিংওয়েল ও টিউবওয়েল অচল হওয়ায় নারী ও শিশুদের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই ব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের বাসিন্দা খোকন আকবর জানান, উপজেলা সদরের মানুষের দৈনন্দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ করার জন্য একমাত্র লেকের পানির উপর ভরসা করতে হয়। কিন্তু গত ৪-৫দিন ধরে লাইনে পানি নেই। এছাড়া সুপেয় পানির সংকট রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় পানি সংকট দূরীকরণে প্রতি ইউনিয়নে ২৬টি করে ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থ বছরে মোট ২৬০টি গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি নলকূপ ৪০০ ফুট গভীরতা করা হয়েছে। তবে স্থানীয়রা জানান, ইতোপূর্বেকার রিংওয়েল ও টিউবওয়েলে পানি নেই অনেক আগে থেকে। এরমধ্যে চলমান গভীর নলকূপেও অনেক জায়গায় পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যানিং মারমা বলেন- তাঁর ইউনিয়নে পানির সংকট প্রকট। শুষ্ক মৌসুমের তিন মাস পাহাড়ি এই ইউনিয়নের ১৬ হাজার মানুষ খাবার পানির তীব্র সংকটে পড়ে। এবারও তাই হচ্ছে। বিশেষ করে ইউনিয়নের ১, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডে পানির স্তর খুজে পাওয়া যায়না। তবে চলমান গভীর নলকূপ সুষ্ঠুভাবে কাজ সম্পন্ন হলে পানির সংকট কিছুটা দূর হবে।

নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আবছার ইমন বলেন- বর্তমানে তার ইউনিয়নে মোট ৫৪টি গভীর নলকূপের কাজ চলমান রয়েছে। এরপরও সদর ইউনিয়নের ১, ৩, ৪, ৫নং ওয়ার্ডের পানির স্তর খুব নিচে। যার কারণে ওই এলাকায় পানির সংকটও বেশি। এই জনপ্রতিনিধির মতে, ৩নং ওয়ার্ডে দুটি গভীর নলকূপ বরাদ্দ দেওয়া হলেও পানি পাওয়া গেছে মাত্র একটিতে। এছাড়াও বাইশারী ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কয়েকজন ইউপি মেম্বার এই প্রতিবেদককে জানান, যেসব এলাকায় চলমান গভীর নলকূপে পানি পাওয়া যায়নি। তা অন্য এলাকায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। এরপর পানির সংকট যেনো দূর হয় সেই প্রত্যাশা করেন তারা।

সম্প্রতি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ও ঘুমধুম ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ির আশপাশের রিংওয়েল ও টিউবওয়েলে পানি না উঠায় নারীরা দূর দূরান্ত থেকে পাহাড়ী ছড়া ও পুকুর থেকে পানি সরবরাহ করছে। ‘এলাকায় সবচেয়ে কি সংকট’ এমন প্রশ্নের উত্তরে একাধিক নারী পুরুষ একযোগে বলে উঠলেন ‘ভাই আমাদের খুব পানির সংকট’।

এই প্রসঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী শাহ আজিজ বলেন, বিশেষ করে নাইক্ষ্যংছড়ি ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নে পানির স্তর নিচে। যার কারণে এখানে একটু পানির সংকট রয়েছে। তিনি আরো জানান, সুপেয় পানি সংকট দূরীকরণে প্রত্যেক ইউনিয়নে ২৬টি করে গভীর নলকূপের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিভাগের বান্দরবান নির্বাহী প্রকৌশলী শর্মীষ্ঠা আচার্য বলেন- প্রচণ্ড গরমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক জায়গায় পানিশূন্যতা দেখা দেয়। তাছাড়া পাহাড়ি এলাকায় পাথর থাকায় নলকূপও স্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় প্রস্তাবিত পানি শোধানাগার ও চলমান গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ শেষ হলে পানির সংকট কেটে যাবে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seven − two =

আরও পড়ুন