পানছড়ির বাষট্টি হাজার জনগনের চিকিৎসায় তিন ডাক্তার

fec-image

পানছড়ির বাষট্টি হাজার জনগনের বিপরীতে ডাক্তার রয়েছে মাত্র তিনজন। তাই প্রত্যন্ত এলাকার রোগীরা হাসপাতালমুখী না হয়ে ঝুঁকছে পানি পড়া, বৈদ্যালি ও কবিরাজি চিকিৎসার দিকে। এসব অপচিকিৎসায় কেউবা পাড়ি জমিয়েছে পরপারে কেউবা বরণ করছে পঙ্গুত্ব আবার কেউবা হাতুড়ি ডাক্তার দিয়ে করাচ্ছে সুন্নতে খৎনা।

পানছড়ি উপজেলা ছাড়াও মাটিরাঙা উপজেলার তাইন্দং-তবলছড়ি এলাকার মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু ডাক্তার সংকটে রোগী নিয়ে হাসপাতালে আসতে অনীহা সবার। বর্তমান সময়ে এমবিবিএস ডাক্তার মানেই পানছড়ির জন্য এক অদৃশ্য বস্তু। যে তিনজন কর্মস্থলে রয়েছে তারা দিনে-রাতে সেবা দিতে গিয়ে প্রায় সময় দেখা গেছে নিজেরাই রোগী। তাই সেবা নিতে অনেকের প্রশ্ন ডাক্তার তো নিজেই রোগী আমাদের সেবা দিবে কে?

জানা যায়, তের জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র তিনজন। ডা. বিদুর্শী চাকমা রয়েছে আরএমওর দায়িত্বে সাথে রয়েছে মেডিকেল অফিসার ডা. সুমেন চাকমা। ডেন্টাল সার্জন থাকার কথা থাকলেও মাতৃত্ব জনিত কারণে কর্মস্থল নেই। কনসালটেন্ট, মেডিসিন ও গাইনিসহ চারজন থাকার কথা থাকলেও একজনও নেই। গাইনি হিসেবে ডা. মিনাক্ষী পানছড়ি কর্মস্থলে নাম থাকলেও ফরিদপুরে পর্দা কেলেঙ্কারিতে হাজতবাস খেটে সাময়িক বরখাস্তের কারণে অনুপস্থিত।

পাঁচটি ইউপিতে চারটি সাব সেন্টারে চারজন ডাক্তার থাকার থাকলেও শুধুমাত্র উল্টাছড়ি ছাড়া বাকীগুলো শূন্য। ল্যাব ট্যাকনেশিয়ান ২জন থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র একজন। চৌদ্দজন নার্সের বিপরীতে আছে মাত্র ছয়জন। পাঁচজন মালি থাকার কথা থাকলেও রয়েছে দুইজন। তাছাড়া অফিস সহকারী ছাড়াই চলছে স্বাস্থ্য সেবার এই বিশাল প্রতিষ্ঠান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অনুতোষ চাকমা জানান, ডাক্তার সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবায় ঘাটতি রয়েছে সেটা সত্য। ডা. রিপল বাপ্পি খাগড়াছড়ি সদর ও ডা. আবির দীঘিনালা হাসপাতালে ডেপুটেশনে রয়েছে। ডাক্তার সংকটের কথা বার বার লেখা হচ্ছে দেখা যাক কি হয়।

খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা. নুপুর কান্তি দাশ জানান, পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার সংকটের কথা আমার জানা আছে। এ নিয়ে মহা-পরিচালক বরাবর পর্যন্ত লেখা হয়েছে। তবে সহজে এর সমাধান হবেনা। করোনার কারণে তিন পার্বত্য জেলার জন্য ডাক্তারই পাওয়া যাচ্ছেনা। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়তো কিছু একটা হতে পারে।

পানছড়ির সর্বস্তরের জনগনের দাবি এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন কোন ডাক্তার যোগদানের আগেই অন্যত্র বদলীর রেকর্ডও রয়েছে। তাই যখন-তখন বদলীর ব্যাপারে কিছু নিষেধাজ্ঞা জারী ছাড়া এসব এলাকায় সেবা পাওয়া সম্ভব না। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি চেয়ে শূন্যপদগুলো পূরণের জোর দাবি পানছড়িবাসীর।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 − 5 =

আরও পড়ুন