পার্বত্য তিন সংসদীয় আসনে চ্যালেঞ্জের মুখে আওয়ামীলীগের তিন হেভিওয়েট’ প্রার্থী
মুজিবুর রহমান ভুইয়া :
আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য তিন সংসদীয় আসনে (খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান) নির্বাচনী মাঠে শক্ত প্রতিদ্বন্ধিতার মুখে পড়তে হবে আওয়ামীলীগের তিন ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থীকে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি‘র প্রার্থী বিহীন নির্বাচনী মাঠে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থীদের মোকাবেলা করেই ‘নির্বাচনী বৈতরণী’ পার হতে হবে তাদেরকে এমনটাই মনে করছেন পাহাড়ের সচেতন ভোটাররা। শেষ পর্যন্ত দশম জাতীয় সংষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এবং বিএনপি এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে খাগড়াছড়িতে ‘ দ্বিমুখী ’, খাগড়াছড়িতে ‘ত্রিমুখী’ এবং বান্দরবানে ‘ত্রিমুখী’ লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রত্যেকটি আসনেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে সরকারী দল আওয়ামীলীগের তিন ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী। সেক্ষেত্রে ধরাশায়ীও হতে পারেন কেউ কেউ।
খাগড়াছড়ি
খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের প্রথম দিনে মনোনয়পত্র বাছাইকালে বাদ পড়েছেন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী। আর নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রথম ধাপ অতিক্রম করে টিকে যাওয়া প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, জাতীয় পার্টির (এরশাদ) মনোনীত প্রার্থী দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আহবায়ক আলহাজ্ব সোলায়মান আলম শেঠ, ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ‘র প্রধান প্রসীত বিকাশ খীসা, ইউপিডিএফ‘র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমা, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি‘র (এমএনলারমা গ্রুপ) কেন্দ্রীয় নেতা মৃনাল কান্তি ত্রিপুরা। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ‘র ঘোষনা অনুযায়ী থেকে শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টির সমর্থিত প্রার্থী আলহাজ্ব সোলায়মান আলম শেঠ খাগড়াছড়ির নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাড়ালে লড়াই হবে দ্বিমুখী। সেক্ষেত্রে আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে মোকাবেলা করতে হবে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ‘র প্রধান প্রসীত বিকাশ খীসাকে। বিগত নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামীলীগ ইউপিডিএফ‘র সমর্থিত প্রার্থী তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও বিএনপি বিহীন এই নির্বাচনে ভোটের হিসাব-নিকাশ পুরোপুরি পাল্টে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে জেলার সচেতন ভোটার মহলে। সেক্ষেত্রে কেউ কেউ আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ‘র প্রার্থীকে এগিয়ে রাখতেও ভুল করছেননা।
বান্দরবান
মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাইকালে ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল হওয়ায় নির্বাচনী মাঠে রইলেন শক্তিশালী তিন প্রার্থী। এরা হলেন, আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক টানা চারবারের সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশেশিং, আওয়ামীলীগ থেকে সদ্য বহিস্কৃত প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ‘র জেলা সংগঠক ছোটন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা। শেষোক্ত দুই জন ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনী লড়াইয়ে আবির্ভুত হবেন বীর বাহাদুর‘র বিরুদ্ধে। বান্দরবানের সংসদীয় আসনে ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্রর সাথে দেয়া কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন জেলা রির্টানিং অফিসার। শেষ পর্যন্ত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে দুই ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়াই করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া অনেক বেশী দূ:স্বাধ্য হবে বীর বাহাদুরের জন্য এমনটাই মনে করছেন বান্দরবানের সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে বিএনপি বিহীন এ নির্বাচনে ‘ত্রিমুখী’ লড়াই হবে বান্দরবানে। সেক্ষেত্রে ভোটের অতীত সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।
রাঙ্গামাটি
রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদারের মনোনয়নপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদন খারিজ হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এতো সহজেই উৎড়ে যেতে পারবেন না রাঙ্গামাটির ‘দাদা’ খ্যাত দীপঙ্কর তালুকদার। বিএনপি বিহীন এক তরফা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে দীপঙ্কর তালুকদার-কে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গামাটিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সেখান সচেতন মহল। তাদের বিএনপি বিহীন নির্বাচনে ‘বৈতরণী’ পার হওয়া অনেক ককষ্টকর হবে দাদা‘র জন্য। নির্বাচনী মাঠে দীপঙ্কর তালকদারকে দুই আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠনের ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী পূর্ণস্বায়ত্বশাসনের দাবীতে আন্দোলনরত ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ‘র প্রধান প্রসীত বিকাশ খীসা ও চুক্তির পক্ষের শক্তি বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি‘র (সন্তু লারমা গ্রæপ) কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি উষাতন তালুকদার-কে মোকাবেলা করতে হবে। এ তিনের বাইরেও রাঙ্গামাটির সংসদীয় আসনে নির্বাচনী মাঠে থাকবেন বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি‘র (এমএনলারমা গ্রুপ) কেন্দ্রীয় সভাপতি সুধাসিন্ধু খীসা ও জাতীয় পার্টি (এরশাদ) মনোনীত প্রার্থী ডা: রূপম দেওয়ান । নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রথম ধাপ যাচাই-বাছাইয়ে টিকে যাওয়া অন্য তিন প্রার্থীর শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন রাঙ্গামাটির সচেতন মহল।
অন্যদিকে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যাওয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সভাপতি এ্যাডভোকেট মো: আবছার আলী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে ফিরে আসলে ভোটের মাঠে নয়া মেরুকরণ হবে বলেও মনে করছেন রাঙ্গামাটির সচেতন ভোটার মহল।


















