“পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে অস্ত্রগুলো আনা হয়।”

পার্বত্য সন্ত্রাসীদের দিয়েই একে-২২ রাইফেল আসে

fec-image

পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে অস্ত্রগুলো আনা হয়। এমন পাঁচটি এ কে ২২ রাইফেল আনার তথ্য গোয়েন্দাদের কাছে থাকলেও খালেদ স্বীকার করছেন দুটির কথা। যে দুটি ইতিমধ্যে পুলিশ উদ্ধার করেছে।

শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সঙ্গে মিলে অত্যাধুনিক এ কে ২২ রাইফেল দেশে এনেছেন বলে স্বীকার করেছেন যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, শীর্ষ এক নেতার সঙ্গে বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করতেই এই অস্ত্র আনা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে অস্ত্রগুলো আনা হয়। এমন পাঁচটি এ কে ২২ রাইফেল আনার তথ্য গোয়েন্দাদের কাছে থাকলেও খালেদ স্বীকার করছেন দুটির কথা। যে দুটি ইতিমধ্যে পুলিশ উদ্ধার করেছে।

এদিকে ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়ে গত ১০ দিনে উদ্ধার করা টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম। তিনি বলেন, মামলার সময় টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার জমা দেওয়া হয়েছে। সেগুলো আদালতের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়ে যাবে।

খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদকারী সূত্র জানায়, এ কে ২২ রাইফেল আনার কথা তিনি স্বীকার করেছেন। এই একই ধরনের অস্ত্র হলি আর্টিজানে হামলায় জঙ্গিরা ব্যবহার করেছে। গত ৩০ জুন রাজধানীর ওয়ারীর ওয়ান্ডারল্যান্ডের সামনে থেকে একটি এ কে ২২ রাইফেল উদ্ধার করে সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ। ওই ঘটনায় পুলিশ দুই জনকে গ্রেফতার করে। তারা অস্ত্রের বাহক মাত্র। তারা জিজ্ঞাসাবাদে তখন জানিয়েছিল, গত ছয় মাসে আরও তিনটি এ কে ২২ অটোমেটিক রাইফেল হাতবদল হয়েছে। কাদের মাধ্যমে কীভাবে সেটা হয়েছে, তারা বলতে পারেনি। খিলগাঁও থেকেও এ কে ২২ রাইফেল উদ্ধারের সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া তিন সন্ত্রাসী পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা তখন জানিয়েছিলেন, টেন্ডার নিয়ে বিরোধের কারণে দক্ষিণ যুবলীগের এক শীর্ষ নেতাকে হত্যার মিশনে এই অস্ত্র সংগ্রহ করেছিল তারা। এই অস্ত্র আমদানির সঙ্গে তখন খালেদের নাম এলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এদিকে ক্যাসিনো, জুয়া ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে গত ১০ দিনের অভিযানে র‌্যাব এ পর্যন্ত ২০১ জনকে আটক করেছে। উদ্ধার করেছে অস্ত্র, বিদেশি মদ, সিগারেট, বিয়ার, হেরোইন, কষ্টি পাথরের মূর্তি, ক্যাসিনো ও জুয়া খেলার সামগ্রী। জব্দ করা হয় কয়েক কোটি টাকা, ডলার, এফডিআর ও সঞ্চয়পত্রের কাগজপত্র এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার।

গত শুক্রবার র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ‘ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান মুখ থুবড়ে পড়ার কোনো কারণ নেই। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। ক্যাসিনোর অভিযানকে নির্মোহভাবে দেখতে হবে। আমরা সব ক্যাসিনো বন্ধ করার জন্যই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে নেমেছি। তাই এখন সব ক্যাসিনো বন্ধ।’

সূত্র জানায়, ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মতিঝিলে চারটি ও গুলশান এলাকায় একটি ক্যাসিনোতে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান। ফকিরাপুল ইয়াংমেনস ক্লাব, ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র ও গোল্ডেন ক্লাবে পরিচালিত অভিযানে আটক হওয়া ২০১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ পরে তাদের কারাগারে পাঠায়। এসব ক্লাব থেকে নগদ ৪০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

অভিযানের প্রথম দিনেই সন্ধ্যায় গুলশানের বাসা থেকে যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়াকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তার কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় অস্ত্র, মাদক ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গুলশান ও মতিঝিল থানায় চারটি মামলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি রিমান্ডে আছেন।

সূত্র: ইত্তেফাক

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: একে-২২ রাইফেল, পার্বত্য সন্ত্রাসীদের
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × 1 =

আরও পড়ুন