প্রতিভার ঝলকে মুখর খাগড়াছড়ি

fec-image

গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার প্রাণবন্ত আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ, সৃজনশীলতা চর্চা এবং দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলেজের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। দেশাত্মবোধ, ঐতিহ্য, মানবিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরা বিভিন্ন পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল কাজী মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী নাজিয়া শাহানাজ আমিন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না, তাদের সাংস্কৃতিক, নৈতিক ও মানবিক গুণাবলীতেও সমৃদ্ধ হতে হবে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ এবং সৃজনশীল চিন্তার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জানা যায়, এ বছরের বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় ৫টি ক্যাটাগরির আওতায় মোট ৪০০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় ২৬টি ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখে। ইভেন্টগুলোর মধ্যে ছিল রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, দেশাত্মবোধক গান, লোকসংগীত, সাধারণ নৃত্য, লোকনৃত্য, উচ্চাঙ্গ নৃত্য, ছড়াগানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বিষয়।

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রতিযোগিতা শেষে বিভিন্ন বিভাগে কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী ৮৬ জন বিজয়ীর হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন অতিথিরা। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস এবং অভিভাবকদের আনন্দে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়ন ও সদর জোনের কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তোলাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: খাগড়াছড়ি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন