ফের প্লাবিত ঘুমধুমের নিম্নাঞ্চল

fec-image

মাত্র ১৫ ঘণ্টার ব্যবধানে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু গ্রামের কয়েকটি এলাকা আবারও প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে প্রবল বেগে ঢলের পানি প্রবেশ করছে। যার কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (৩ জুলাই) গতকালের ন্যায় আবারও টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল এসে ইউপির ১ ও ২ নং ওয়ার্ডের পশ্চিমকূল, ক্যাম্প পাড়া, বাজার পাড়া ও কোনার পাড়ার শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

যার ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ভারী বৃষ্টি হওয়াতে ইউপির বিভিন্নস্থানে পাহাড় ধস হয়েছে তবে প্রাণহানীর কোন ঘটনা ঘটেনি।

সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ইউপি পরিষদ সংলগ্ন মোহাম্মদ ফরিদ আলমের বাড়ির পাশের পাহাড় ধসে মাটির দেওয়ালে পাশে ছড়িয়ে গেছে, এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। অতিরিক্ত বর্ষণে পানি প্লাবিত হওয়ার কারণে কয়েকটি সড়কের বিভিন্নস্থান ভেঙে যাচ্ছে। সরকারিভাবে ১৭ দিন প্রাইমারি স্কুল বন্ধ থাকার পর আজকে খোলা ছিল। সীমান্তবর্তী তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠসহ চারপাশ প্লাবিত হওয়ার কারণে শিক্ষকদের উপস্থিতি থাকলেও স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী ছিল শূন্য। পশ্চিমকূল ভাষা সৈনিক মুসা মিয়া নুরানি মাদ্রাসার ভিতরও হাটু পরিমাণ পানি আসার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে পরিচালক কমিটি মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করেন। দুপুর ১২টার পর থেকে আস্তে আস্তে পানি কমতে শুরু করেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।

এদিকে গতকাল টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকারিয়া ও উপজেলা চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ। পরবর্তী তাদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেন।

ইউপি সদস্য মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, ১ নম্বর ওয়ার্ডে যারা পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করে তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়েছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ পার্বত্যনিউজকে জানান, জেলার প্রশাসকের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকারিয়াসহ ঘুমধুমের প্লাবিত এলাকায় পরিদর্শন ও তাদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের খোঁজ খবর নিয়েছি। কয়েকদিন ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল এসে সীমান্তবর্তী ঘুমধুমের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় অনেকেই দুর্ভোগে পড়েছে। উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিম্নাঞ্চলের মানুষকে সতর্কতাসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন