বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন! আতঙ্কিত স্থানীয়রা

fec-image

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে স্থলমাইন পুঁঁতেছে মিয়ানমার। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে জিরো লাইন এবং কাঁটাতারের বেড়া ঘেঁষে স্থলমাইন বসিয়ে রেখেছে মিয়ানমারের সেনারা। তুমব্রু সীমান্তের কয়েকজন স্থানীয় নাগরিক জানান, মিয়ানমারের বিজিপি ও সেনারা প্রতি নিয়ত কাঁটাতারের পাশ দিয়ে টহল দিতে দেখা যায়, মাটিতে গর্ত করে কিছু একটা রাখছে এমন দৃশ্যও দেখা যায়। কিন্তু জিনিসটি কি সেটি বোঝা যায় না। তবে ধারণা করা হচ্ছে স্থলমাইন পুঁতে রাখছে।

এদিকে সীমান্তের তুমব্রু তুয়াইংগাঝিরি এলাকা থেকে ৩ সেপ্টেম্বর শাহজাহান (৩২) নামের এক রোহিঙ্গা যুবকের ক্ষত-বিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্পের জি ব্লকের বাসিন্দা রুস্তম আলীর ছেলে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।

কুতুপালং লম্বাশিয়া এলাকার খলিল মাঝি জানান, কুতুপালং লম্বাশিয়া ও মধুরছড়া ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে অধিকাংশের বাড়ি সীমান্তের কাছাকাছি। তাই মাঝেমধ্যে তারা নো ম্যান্স ল্যান্ড অতিক্রম করে মিয়ানমারে যান। বিষয়টি বুঝতে পেরে সীমান্তে মাইন পুঁতেছে মিয়ানমার সেনা ও বিজিপিথর সদস্যরা। যাতে রোহিঙ্গা মিয়ানমারের অভ্যান্তরে যেতে না পারে।

তুমব্রু সীমান্তের স্থানীয় নুর মোহাম্মদ জানান, মিয়ানমার সেনা ও বিজিপির সদস্যরা প্রতিনিয়ত কাঁটাতারের পাশ দিয়ে টহল দিয়ে থাকে। এ সময় তারা মাটিতে কি যেন গর্ত করে পুঁতে রাখতেও দেখা গেছে। কিন্তু এগুলো কি জানিনা। এ নিয়ে সীমান্তে বসবাসকারী লোকজনের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

ঘুমধুম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, সীমান্তে মিয়ানমার সেনাদের পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। গত ৬ দিন পূর্বে তুমব্রু সীমান্ত এলাকা থেকে মাইন বিস্ফোরণে নিহত এক রোহিঙ্গা যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে ঘুমধুম ফাঁড়ির পুলিশ। এর আগেও নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের মধ্যে মাইন বিস্ফোরণে অনেকে হতাহত হয়েছে।

তিনি বলেন, সীমান্তের ঘুমধুম, তুমব্রু, বাইশফাঁড়ি, রেজু, আমতলী সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয়রা এ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে।

ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমন চৌধুরী বলেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় লোকজনের সংবাদের ভিত্তিতে তুমব্রু তুয়াইংগাঝিরি নামক নোম্যান্স ল্যান্ড থেকে এক রোহিঙ্গা যুবকের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীর থেকে দুই পা বিচ্ছিন্ন ও চোখ উপড়ে গিয়েছিল। নো ম্যান্স ল্যান্ডে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ অংশেই এ যুবকের মরদেহ পড়েছিল। তবে সীমান্তে মিয়ানমার বাহিনীর পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ জানায়, বিষয়টি নিয়ে (বৃহস্পতিবার) মিয়ানমারের সাথে বৈঠকের কথা রয়েছে। তাই বৈঠকের পরে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × two =

আরও পড়ুন